ধৃত নেতারা, খাঁচাবন্দি রাজধানী! যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ থিতোতেই স্বাভাবিক হচ্ছে দিল্লির জনজীবন

ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রস্তাবিত যন্তর মন্তর বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিগত ২৪ ঘণ্টায় যে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কাটতে শুরু করেছে। শীর্ষ নেতৃত্ব সহ একাধিক বিক্ষোভকারী ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটকের পর ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে জাতীয় রাজধানী।
স্বাভাবিক হচ্ছে ট্রেন ও যান চলাচল:
শুক্রবার ব্যাপক ধরপাকড়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ২০০টিরও বেশি ট্রেন বাতিলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোমর বেঁধে নামে প্রশাসন। সিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের আটকের পর ভারতীয় রেল এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। নয়াদিল্লি থেকে বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি, ধৌলা কুয়ান থেকে সর্দার প্যাটেল মার্গ সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও আটকদের পরিসংখ্যান:
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত জমায়েত রুখতে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
ট্রাফিক জোন-২-এর অতিরিক্ত সিপি দীনেশ কুমার গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর এখন আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সাধারণ নাগরিক ও গণমাধ্যম উভয়েই সম্পূর্ণ অবাধে চলাচল করতে পারছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক নির্দেশিকা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।