২৫০ রান ডিফেন্ড করেও হার! ফ্ল্যাট পিচ দেখে মেজাজ হারালেন গৌতম গম্ভীর, তুললেন মারাত্মক অভিযোগ

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি যেন ক্রিকেটপ্রেমীদের এক অদ্ভুত উত্তেজনার খোরাক জোগালেও, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মাত্র ৪০ ওভারের কম সময়ে দুই দল মিলে মোট ৫০১ রান তোলার এই ম্যাচটি ব্যাট ও বলের চিরন্তন লড়াইয়ের ভারসাম্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২৪৯ রান তোলার পরও, উইন্ডিজ দল ১৮.৩ ওভারেই ২৫২ রান তুলে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয়। আর এই হাই-স্কোরিং ম্যাচের পরেই পিচের চরিত্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।

বোলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ:
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ক্রিকেট কেবল চার-ছক্কার বাউন্ডারি মারার প্রদর্শনী হতে পারে না। রাঁচির ফ্ল্যাট ও প্রাণহীন পিচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা কি ব্যাট ও বলের মধ্যে একটি ভালো লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা চান, আমরাও তাই চাই। আপনারা যদি শুধু চার-ছক্কা দেখতে চান, তাহলে আমরা তা দেখতে প্রস্তুত। কিন্তু সমানে সমানে লড়াই না হলে বোলারদের ক্যারিয়ার আক্ষরিক অর্থেই ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। আমাদের বোলাররাও কঠোর পরিশ্রম করে ড্রেসিংরুমে পৌঁছেছে।” পিচ এবং বলের সমানাধিকার না থাকলে ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য নষ্ট হবে বলেই মত তাঁর।

চলমান সিরিজে দ্বিতীয়বার ক্ষোভ প্রকাশ:
সাধারণত ম্যাচ হারার পরেই দলগুলি পিচ নিয়ে অজুহাত খোঁজে বলে সমালোচনা হয়। তবে গম্ভীরের এই অবস্থানের পেছনে কোনো পরাজয়ের হতাশা নেই, কারণ এর আগেও চলতি সাদা বলের সিরিজে পিচের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এর আগে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও যখন উইন্ডিজ ৪০৫ রান তোলে এবং শুভমান গিলের দ্বিশতকের সুবাদে ভারত ম্যাচ জেতে, তখনও এই ধরনের ফ্ল্যাট উইকেটের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ভারতীয় কোচ।

১-১ সমতায় সিরিজ:
ক্যারিবিয়ানদের এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এখন ১-১ সমতায় চলে এসেছে। সিরিজের পরবর্তী হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ১১ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলির পিচ প্রস্তুতকারকরা বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধার কথা ভাবেন, নাকি ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য হিসেবেই বজায় থাকে উইকেটের চরিত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *