শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে বিরাট বদল! পরীক্ষা দেওয়ার আগেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে এই শংসাপত্র

উত্তর প্রদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এলটি (LT) গ্রেডের সহকারী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যারা দেখছেন, তাঁদের জন্য আসতে চলেছে এক বড়সড় পরিবর্তন। রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মান উন্নত করতে শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET) বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে। এই লক্ষ্যে ‘উত্তর প্রদেশ অধস্তন শিক্ষা (প্রশিক্ষিত স্নাতক বিভাগ) পরিষেবা বিধিমালা, ২০২৪’ সংশোধনের একটি বিশেষ প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর।
এনসিটিই (NCTE)-র নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য:
জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ বা এনসিটিই (NCTE)-এর ২০১৪ সালের ১২ই নভেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানকারী শিক্ষকদের নির্দিষ্ট উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করা বাধ্যতামূলক। নতুন প্রস্তাবে স্নাতক স্তরে অন্তত ৫০% নম্বর অথবা স্নাতকোত্তর স্তরে ৪৫% নম্বরসহ বি.এড (B.Ed.) ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। নিয়োগের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়মাবলী সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং বিবাদমুক্ত রাখতেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।
বিধিমালা সংশোধনে তড়িঘড়ি:
মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রতাপ সিং বাঘেল গত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিধিমালা পুনর্বিবেচনা ও দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ জানান। ৭ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বর্তমান বিধিমালার ফাঁকফোকর বন্ধ করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নম্বর এবং টেট (TET) বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট করাই এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও প্রার্থীর করণীয়:
উল্লেখ্য, এলটি গ্রেড শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার স্পষ্টতা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা গড়ায়। আদালত নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপনে দ্রুত স্পষ্টীকরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। উত্তর প্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPPSC) এই এলটি গ্রেডের নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে। ফলে, সরকারি অনুমোদনের পর কমিশন দ্রুতই নতুন সংশোধিত যোগ্যতা সম্বলিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে। আগামী দিনে শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের এই নতুন নির্দেশিকা ও নোটিফিকেশনের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।