রান্নাঘরের লঙ্কা দিয়েই দেবী প্রতিমা! সোনারপুরের কলেজ পড়ুয়ার তাক লাগানো সৃষ্টিতে বাড়ছে কৌতূহল

দুর্গাপুজো মানেই অভিনব থিম, চোখধাঁধানো মণ্ডপ আর নানা রকমের প্রতিমার চমক। পরিবেশবান্ধব উপকরণ থেকে শুরু করে বিচিত্র সামগ্রী দিয়ে দুর্গা মূর্তি তৈরির ট্রেন্ড বহুদিনের। তবে প্রতিবারের মতো এবারও এক্কেবারে নতুন এবং ভিন্ন স্বাদের এক প্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের এক কলেজ পড়ুয়া। মাটি কিংবা ফাইবার নয়, একেবারে রান্নাঘরের নিত্যদিনের উপকরণ শুকনো লঙ্কা দিয়ে জীবন্ত করে তুলেছেন দেবী দুর্গার রূপ। অভিনব এই ‘লঙ্কা-দুর্গা’ দেখতে পুজোর আগেই এলাকায় সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

কে এই প্রতিমার স্রষ্টা?
সোনারপুরের বাসিন্দা জয়মাল্য মণ্ডল পেশায় সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর ঝোঁক ছিল সৃজনশীল কিছু করার দিকে। এর আগে বাড়িতে বসেই কখনও ট্রেনের মডেল তো কখনও ঘরোয়া সামগ্রী দিয়ে এটিএম তৈরি করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। প্রতি বছর দুর্গাপুজো এলেই তাঁর মাথায় কিছু নতুন করার ভাবনা ঘোরে। কীভাবে পরিচিত কোনো প্রতিমাকে সম্পূর্ণ অন্য এক রূপ দেওয়া যায়, সেই কথাই ভাবতে ভালোবাসেন জয়মাল্য।

শুকনো লঙ্কা থেকেই এল ভাবনা:
এর আগে মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়লেও এবার এমন একটি উপাদান বেছে নিতে চেয়েছিলেন যা সচরাচর দেখা যায় না। সেই সুবাদেই শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। প্রথমে তেজপাতা বা দেশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর নজর কাড়ে রান্নাঘরে থাকা লাল টকটকে শুকনো লঙ্কা। আর সেই লঙ্কা দিয়েই দুর্গা প্রতিমা গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

টানা পরিশ্রমে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে দশভুজার পুরো অবয়ব। জয়মাল্য জানিয়েছেন, প্রতিমার কাজ প্রায় শেষের পথে। শুধুমাত্র চোখ আঁকা বাকি রয়েছে। মহালয়ার দিনই দেবীর চক্ষুদান করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। এরপর স্থানীয় পাড়ার পুজোমণ্ডপেই এই অভিনব প্রতিমায় পুজো হবে।

পরিবারের সমর্থন ও উৎসাহ:
জয়মাল্যর এই শিল্পকর্মের নেপথ্যে রয়েছে পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন। তাঁর বাবা রঞ্জিত মণ্ডল পেশায় শিক্ষক। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জয়মাল্য কোথাও প্রথাগতভাবে হাতের কাজ শেখেননি। সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহে, ইউটিউব দেখে এবং নিজস্ব কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই চমৎকার জিনিসগুলি তৈরি করেন। জয়মাল্যর দিদি ভূমিকা মণ্ডল জানান, প্রতি পুজোতেই ভাইয়ের নতুন নতুন আইডিয়া তাঁকে অবাক করে। আগের বছরের কাজকে ছাপিয়ে আরও ভালো কিছু করার যে জেদ ভাইয়ের মধ্যে রয়েছে, তারই দারুণ ফল এই ‘লঙ্কা-দুর্গা’।

পুজোর দিনগুলিতে এই লঙ্কা-দুর্গা প্রতিমা দর্শনার্থীদের কতটা আকর্ষণ করে এবং কতটা তাক লাগায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *