ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বে প্রথমবার! বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এবার ইংরেজিতে

বাঙালির দুর্গাপুজোর আবেগ, শ্রীশ্রীচণ্ডীর চিরন্তন স্তোত্রপাঠ এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কালজয়ী কণ্ঠে মহালয়ার চিরপরিচিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’—বাঙালির এই ঐতিহ্যকে এবার আন্তর্জাতিক দরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিল ‘কারিগরি কবিয়াল’ টিম। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ হলে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক রূপ হিসেবে মঞ্চস্থ হলো ইংরেজি ভাষায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। আয়োজকদের দাবি, বাংলার এই কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই তাঁদের এই অভিনব প্রচেষ্টা।
অনুষ্ঠানের আবহ ও বিশ্বমঞ্চের পরিকল্পনা:
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রীচণ্ডীর পবিত্র শ্লোকের ভাব, সুর এবং গভীর আধ্যাত্মিকতার মূল ধারাকে বিন্দুমাত্র বিকৃত না করে নিখুঁত ইংরেজি ভাষায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পরিবেশন করা হয়। বাঙালির কাছে মহালয়ার ভোর মানেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই মহাজাগতিক ও আবাহনী সুর। সেই ঐতিহ্যবাহী আবেগকে অটুট রেখে ভিন্ন ভাষাভাষী ও আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তা তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
মঞ্চভাবনা ও অসামান্য উপস্থাপনা:
পুরো অনুষ্ঠানটির গল্পগাথা, মঞ্চভাবনা ও নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিয় সেনগুপ্ত এবং তাঁর সংস্থা ‘কারিগরি কবিয়াল’। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভাষার গণ্ডি পার করিয়ে বিশ্বজনীন করার এই উদ্যোগ উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমী ও বিশিষ্টজনদের চরম প্রশংসিত হয়েছে।
দর্শকদের বিপুল সাড়া ও আবেগঘন মুহূর্ত:
অনুষ্ঠানটি দেখতে রামকৃষ্ণ মিশনের হলে ভিড় জমিয়েছিলেন শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ দর্শক। প্রতিটি শ্লোক ও স্তোত্রপাঠের ইংরেজি রূপায়ণ দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। ঐতিহ্য, সাধনা ও মা দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই রূপান্তর এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এ এক ঐতিহ্য, এ এক সাধনা, এ এক মায়ের আরাধনা।” বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্ম ও অ-বাঙালি মানুষদের কাছে মহালয়ার এই চিরন্তন সুর পৌঁছে দিতে এই প্রয়াস যে ইতিহাস গড়ে তুলল, তা একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।