নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ! আদালতের উপরই নিষেধাজ্ঞা চাপালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আইনজ্ঞ তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রাক্তন বিচারপতি নভি পিল্লাইকে ভূষিত করা হয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কারে। তবে এই ঐতিহাসিক পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হলো তীব্র উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের উপর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ওয়াশিংটনের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক মিত্র দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক সংঘাতের মেঘ।

কেন ICC-র উপর ক্ষেপে উঠলেন ট্রাম্প?
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকান নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং আদালতের সম্ভাব্য বিচারপ্রক্রিয়া থামাতেই এই কড়া পদক্ষেপ। রুবিওর দাবি, এই আদালত আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন কোনোভাবেই মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসি-র বিচারিক একচ্ছত্র আধিপত্য মেনে নেবে না। ফলে এই আদালতের সঙ্গে সমস্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা।

উল্লেখ্য, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে ২০০২ সালে গঠিত ১২৫টি দেশের সদস্যপদ থাকা এই আদালতের রোম সংবিধিতে আমেরিকা স্বাক্ষর করলেও তা সংসদে অনুমোদন দেয়নি।

নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তান ইস্যু:
মূলত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সহ একাধিক উচ্চপদস্থ ইজরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিল ওয়াশিংটন। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়েও আদালতের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। মার্কিন আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই আদালত ভবিষ্যতে আমেরিকান সেনা, সীমান্তরক্ষী এমনকি নির্বাচিত নেতাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের ছক কষতে পারে।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত:
মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনি নীতি ও বিশ্ব বিচারব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে আইসিসি। আদালতের ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান বলেন, “কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা বাধা তৈরি করে আদালতের কাজ থামানো যাবে না। বিচার ও তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই চলবে।” অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের ছয় মাসের ছাড়ের সময়সীমাকে কাজে লাগিয়ে আলোচনার পথ খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।

কে এই নোবেলজয়ী নভি পিল্লাই?
৮৫ বছর বয়সি প্রবীণ আইনজ্ঞ নভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আইসিসি-র আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। এর আগে রুয়ান্ডা গণহত্যার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি যখন রাজনীতি ও ক্ষমতার তোপের মুখে, তখন পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বকে এই সম্মান প্রদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *