প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের খরচ বাড়াবেন না! ঘরের এই ৭ পানীয়তেই মিলবে জিমের চেয়েও বেশি শক্তি

সুস্থ শরীর, শক্তিশালী পেশি, উজ্জ্বল ত্বক এবং ঘন চুলের জন্য প্রোটিন একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি বাড়াতে আজকাল অনেকেই দামি প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রান্নাঘরেই এমন অনেক সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর পানীয় রয়েছে, যা প্রোটিনের প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উৎস।

খ্যাতনামা ডায়েটিশিয়ান জয়শ্রী বণিক জানাচ্ছেন, দেশীয় ঘরানার এই পানীয়গুলি কেবল শারীরিক শক্তিই বাড়ায় না, বরং পরিপাকতন্ত্রকে সচল ও সুস্থ রাখতেও জাদুর মতো কাজ করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর মধ্যে মাত্র এক বা দু’টি পানীয় অন্তর্ভুক্ত করলেই পর্যাপ্ত প্রোটিন ও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পাওয়া সম্ভব।

প্রোটিনে ভরপুর সেরা কিছু দেশীয় পানীয়:

ছাতুর শরবত: ভাজা ছোলা থেকে তৈরি ছাতু প্রোটিনের এক দারুণ উৎস। এটি শুধু তীব্র গরম থেকে স্বস্তিই দেয় না, বরং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে।

কাঠবাদামের দুধ: কাঠবাদে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। সারারাত ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়।

ঘোল ও লস্যি: ঘোলে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি প্রচুর প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, টক দই দিয়ে তৈরি লস্যি পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তির মাত্রাও বজায় রাখে।

মুগ ডালের স্যুপ: হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবার খুঁজলে মুগ ডালের স্যুপ দারুণ বিকল্প। এতে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও প্রচুর পরিমাণে থাকে।

রাগি মল্ট: রাগি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনে ভরপুর একটি শস্য। রাগি মল্ট দিয়ে তৈরি পানীয় শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্যই অত্যন্ত পুষ্টিকর।

সয়া মিল্ক: যাঁরা সাধারণ দুধ পছন্দ করেন না, সয়াবিন থেকে তৈরি সয়া মিল্ক তাঁদের জন্য প্রোটিনের অন্যতম সেরা নিরামিষ বিকল্প।

ঠান্ডাই: দুধের সাথে কাঠবাদাম, বিভিন্ন বীজ, মৌরি এবং শুকনো ফল মিশিয়ে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী পানীয় শরীরকে ঠান্ডা ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মনকে সতেজ রাখে।

দৈনন্দিন রুটিনে এই দেশীয় পানীয়গুলি যোগ করার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই স্বাস্থ্য ও শক্তির মাত্রা উন্নত করা সম্ভব।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের আগে বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *