সংসদের কাছাকাছি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা! প্রতিবাদের অনুমতি নিয়ে শীর্ষ আদালতে কী জানাল সরকার?

জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও জমায়েত ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এবার প্রতিবাদের স্থান পরিবর্তন নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে দিল্লিতে ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কড়া ব্যারিকেড তৈরির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালীন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গটি সামনে আসে। শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল জানান যে, ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র তরফে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চাওয়া হলেও প্রশাসন তা খারিজ করে দিয়েছে। যদি যন্তর মন্তরে অনুমতি না মিলত, তবে বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দানকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেন তিনি।

শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, যন্তর মন্তর এলাকাটি সংসদের অত্যন্ত কাছাকাছি এবং সেখানে বহু সাংসদের সরকারি বাসভবন রয়েছে। অতীতে ওই একই দলকে একদিনের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলেও তারা ১৭ দিন ধরে সেখানে অবস্থান চালিয়েছিল এবং সেখান থেকেই সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। সংসদ দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হওয়ায় সেখানে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না বলেই স্পষ্ট করে জানান সলিসিটর জেনারেল।

অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পর্যবেক্ষণ করেন যে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে, তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হয়। যন্তর মন্তরে শৌচাগার বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তার মতো মৌলিক সুবিধার অভাব থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম অসুবিধায় পড়তে হয় বলেও মন্তব্য করে আদালত। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, সরকার এই বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য একটি উপযুক্ত বিকল্প স্থান বিবেচনা করবে। সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টির দ্রুত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে আয়োজকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *