‘গোটা হিন্দু সমাজকে অপমান করা হয়েছে!’ বিকাশের মন্তব্যে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী

প্রবীণ বামনেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই হামলার নেপথ্যে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’রা রয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন বিকাশ ভট্টাচার্য। আর বাম নেতার এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জলঘোলা। এই ঘটনায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পোস্ট থেকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ মুছে ফেলার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে ইএম বাইপাস সংলগ্ন পূর্বালোক এলাকায় সিপিএম নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। বাইকে করে এসে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও মদের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়ে বামনেতা দাবি করেন যে, এই হামলার পেছনে হিন্দুত্ববাদীদের হাত রয়েছে।
শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে মুখ খুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তবে হামলার সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে একটি নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে গোটা সনাতনী হিন্দু সমাজকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিকাশবাবু নিজের পোস্টে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করেছেন, যা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। কসবা ও গড়ফা থানায় ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি তিনি ওই পোস্ট থেকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ সংশোধন বা ডিলিট না করেন, তবে পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে ওই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে টেক-ডাউন (নামিয়ে দেওয়া) করার বন্দোবস্ত করা হবে।” আইনজীবীর পেশাকে ঢাল বানিয়ে বা আইনের অপব্যবহার করে এই ধরণের প্রচার বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।