মি টু-র ঝড় তোলার পর থেকেই নরকদর্শন! গাড়ি থেকে ব্রেক ফেল, মৃত্যুর পর কোন চাঞ্চল্যকর সিক্রেট ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর কেটে গেছে চব্বিশ ঘণ্টাও হয়নি, কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ার পরেও পিছু ছাড়ছে না পুরোনো বিতর্ক। ২০১৮ সালে এই বর্ষীয়ান অভিনেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে দেশের বিনোদন জগতে ‘মি টু’ (Me Too) আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই সমাজমাধ্যমে একাংশের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে নিজের সুদীর্ঘ যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। অভিনেত্রীর স্পষ্ট দাবি, কারও মৃত্যু হলেই অতীতের সমস্ত অপরাধ বা অন্যায় মুছে যায় না।
শুক্রবার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করে তনুশ্রী জানান, নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। অতীতে তিনি যেভাবে নির্ভয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন এবং ফিটনেস নিয়ে সচেতন ছিলেন, অভিযোগ তোলার পর সেই স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নেওয়া হয়। অভিনেত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, বিগত বছরগুলিতে তাঁকে লাগাতার অনুসরণ করা হতো এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হতো। এমনকি গত ২০২৪ সালে তাঁর গাড়ির ব্রেক কেটে দিয়ে তাঁকে হত্যার সুপরিকল্পিত চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি রোমান্টিক গানের শুটিং চলাকালীন নানা পাটেকর তাঁর সঙ্গে জোরজুলুম ও দুর্ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সেই অভিযোগ নতুন করে প্রকাশ্যে আনতেই ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলন এক বিশাল মাত্রা নেয়। যদিও নানা পাটেকর আমৃত্যু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাটি বন্ধ হয়ে গেলেও, নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর তনুশ্রীর এই নতুন মন্তব্য ঘিরে এখন গোটা বলিপাড়ায় ফের সমালোচনার ঝড় উঠেছে।