গাড়ির ধোঁয়াতেই কি নষ্ট হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ? গুরুগ্রামের সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের দূষণ। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (ICCT) গুরুগ্রামে যানবাহনের দূষণের প্রভাব নিয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। ওই সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, শুধুমাত্র যানবাহনের দূষণের কারণে মোট ৯৪,৮৫৯টি স্কুল দিবস নষ্ট হয়েছে। ২০২৫ সালকে ভিত্তি করে তৈরি করা ICCT-র এই সমীক্ষায় ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর সড়ক পরিবহনের দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

৯৪,৮৫৯ স্কুল দিবস নষ্ট বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (ICCT)-এর সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে যে, যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ার জেরে স্কুলছাত্রছাত্রীদের মোট ৯৪,৮৫৯টি স্কুল দিবস নষ্ট হয়েছে। এই হিসাবটি সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার বছরের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অন্য কথায়, সমীক্ষাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দূষণের প্রভাবে শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ৪৩১ জন শিশু পুরো এক বছরের স্কুল কামাই করতে বাধ্য হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, দূষণের কারণে শিশুরা যখন নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, তখন তারা ক্লাসের এমন বহু মূল্যবান পাঠ ও সময় হারায় যা পরবর্তীতে আর সহজে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

নতুন করে বাড়ছে হাঁপানির প্রকোপ:
ICCT-র ওই একই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে যে, যানবাহনের নিষ্কাশিত ধোঁয়ার সরাসরি প্রভাবে আনুমানিক ৮৯টি নতুন হাঁপানির ঘটনা সামনে এসেছে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি চার দিনে অন্তত একটি করে নতুন হাঁপানির ঘটনা রিপোর্ট করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যানবাহনের এই বিষাক্ত ধোঁয়া সরাসরি শিশুদের কোমল ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। উল্লেখ্য, দিল্লি এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR)-এর বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ যানবাহন গুরুগ্রামে প্রবেশ করে।

পরিবেশ বাঁচাতে বিশেষ সুপারিশ:
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ICCT:

স্কুল বাস, দুই ও তিন চাকার যান এবং অন্যান্য যানবাহনকে দ্রুত শূন্য-নিঃসরণকারী বা বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়েছে যে, গুরুগ্রামের প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনকে বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তর করা সম্ভব হলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত সুবিধার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই অর্জন করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *