নিজের মেয়েকে ধর্ষণ-খুন, জামিনে বেরিয়ে স্ত্রীকে হত্যা! খুনিদের সাজা কমাতেই দেশে অপরাধের বন্যা? বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ

অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নমনীয় ও ক্ষমাশীল মনোভাব নিয়ে এবার আদালত কক্ষেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। একের পর এক গুরুতর অপরাধে সুপ্রিম কোর্টের সাজা কমানোর প্রবণতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “শীর্ষ আদালতের এই অতি-ক্ষমাশীল মানসিকতার কারণেই আজ গোটা দেশকে অপরাধের বাড়বাড়ন্তের চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে।” আদালতের এই উদার মনোভাবের একটা কড়া সীমা টানা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“আদালতকে এবার একটা কড়া সীমা টানতেই হবে”
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চে এক খুনের মামলায় দণ্ডিত অপরাধীর সাজা কমানোর আবেদনের শুনানি চলছিল। সেই সময়ই ক্ষোভ প্রকাশ করে জাস্টিস দত্ত মন্তব্য করেন, এক সময় অপরাধ কম হতো এবং ‘বিরল থেকে বিরলতম’ (Rarest of Rare) মামলার নীতিতে মৃত্যুদণ্ড স্থির করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভয়াবহ অপরাধের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই নমনীয় মনোভাব এখন অপরাধীদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
একটি ভয়াবহ পুরোনো কেসের স্মৃতিচারণ
শুনানি চলাকালীন একটি শিউরে ওঠার মতো পুরোনো মামলার উদাহরণ টেনে আনেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। তিনি জানান:
-
একজন বাবা তার নিজের বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল। স্ত্রীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
-
কিন্তু পরবর্তীকালে তার সেই সাজা কমিয়ে জামিন দেওয়া হয়।
-
জেল থেকে বেরিয়ে এসে সেই ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
-
এরপর ছোট সন্তানদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত তাকে আবার মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় সেই মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে দেয়, শুধু এই যুক্তি দেখিয়ে যে সে ছোট সন্তানদের মারেনি!
সুপ্রিম কোর্টের মনোভাব নিয়ে চরম অসন্তোষ
আদালত কক্ষে বিচারপতির সাফ কথা, “সুপ্রিম কোর্টের এই ক্ষমা করে দেওয়ার মানসিকতার কারণেই আজ ভারতকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই আমি বলব, আদালতের এই অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবার কোথাও না কোথাও গিয়ে থামানো অত্যন্ত প্রয়োজন।”
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এই নজিরবিহীন মন্তব্য আইনি ও বিচারবিভাগীয় মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গুরুতর অপরাধীদের সাজা মকুব বা কমানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট আগামী দিনে কোনো কঠোর অবস্থান নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।