মিটিংয়ের নাম করে বিএমডব্লিউ শোরুমে নিয়ে গেলেন মালকিন, তারপর ২ কর্মীর সঙ্গে যা ঘটল তা অবিশ্বাস্য!

কর্মীরা তো দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন, কিন্তু ক’জন বস তা মন থেকে উপলব্ধি করতে পারেন? তবে চীনের এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পরই ইন্টারনেটে ব্যাপক তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। কর্মীদের কষ্টে মন গলে গিয়ে ৪৩-৪৩ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ব্র্যান্ড নিউ বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি উপহার হিসেবে হাতে তুলে দিলেন এক দরদী মহিলা রেস্তোরাঁ মালকিন।
কনকনে শীতে বরফ জমা মুখ দেখে গলল মন
চীনের হেনান প্রদেশের বাসিন্দা মা ইয়ানলি নামের এক মহিলা একটি বিফ হটপট রেস্তোরাঁ চেনের মালিক। তাঁর রেস্তোরাঁয় বিগত প্রায় ৮ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন লি জিয়ে নামের এক মহিলা কর্মী। তীব্র শীতের এক সকালে লি জিয়ে যখন অফিসে পৌঁছান, তখন কনকনে ঠান্ডা বাতাসে তাঁর মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল, কান নীলচে হয়ে জমে গিয়েছিল এবং হাত দুটো ঠান্ডায় শক্ত হয়ে গিয়েছিল।
নিজের এসি গাড়িতে আরাম করে যাতায়াত করা মালকিন মা ইয়ানলি কর্মীর এই বেহাল দশা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তিনি ভাবেন, কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আজ তাঁর ব্যবসা সফল, তাই তাঁদেরও একইরকম আরাম পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
মিটিংয়ের বাহানায় সোজা বিএমডব্লিউ শোরুম!
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিটিংয়ের নাম করে দুই বিশ্বস্ত কর্মী—লি জিয়ে এবং লিউ ইংইং-কে সঙ্গে নিয়ে সোজা বিএমডব্লিউ শোরুমে হাজির হন রেস্তোরাঁর মালকিন। শোরুমে পৌঁছানোর পরই কর্মীদের চমকে দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের জন্য বড় কোনো ‘খেলনা’ অর্থাৎ চকচকে বিএমডব্লিউ গাড়ি অপেক্ষা করছে!
-
লি জিয়েকে দেওয়া হয়েছে একটি সাদা রঙের বিএমডব্লিউ, যা সেদিনই তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।
-
লিউ ইংইংকে দেওয়া হয়েছে একটি ধূসর রঙের বিএমডব্লিউ।
চীনা মুদ্রায় ৩ লাখ ইউয়ান অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়ি দুটির পুরো টাকাই তিনি আগেই মিটিয়ে দিয়েছিলেন। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই বিলাসবহুল গাড়ি পাওয়ার জন্য কর্মীদের কাছ থেকে এক টাকাও নেওয়া হয়নি এবং কোনো চুক্তিপত্রে সইও করানো হয়নি।
“সাফল্যের ভাগ কর্মীদেরও দেওয়া উচিত”
এই দুর্দান্ত উপহার পেয়ে চোখে জল এসে যায় কর্মীদের। নেটদুনিয়ায় বস মা ইয়ানলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। এই বিষয়ে মালকিন জানান, “আমার এই সফলতার পেছনে ওদের হাড়ভাঙা খাটুনি রয়েছে। আমি একা ভালো থাকব আর ওরা কষ্ট পাবে—তা হতে পারে না। কোম্পানির সাফল্যের আনন্দ কর্মচারীদের সঙ্গেই ভাগ করে নেওয়া উচিত।”