আরবিআই-এর সিদ্ধান্তেই মাথায় হাত মধ্যবিত্তের! ব্যাঙ্কের ফাঁদ এড়িয়ে কীভাবে টাকা বাঁচাবেন?

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) রেপো রেট বাড়াতেই ফের বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মধ্যবিত্তের পকেট। গাড়ি, বাড়ি থেকে শুরু করে পার্সোনাল লোন— সব ক্ষেত্রেই সুদের হার এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাঙ্কগুলো। ফলে লোন গ্রাহকদের কাছে ব্যাঙ্কের বার্তা পৌঁছতে শুরু করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের না জানিয়ে বা পরামর্শ দিয়ে লোনের ইএমআই (EMI) একই রেখে সুদের মেয়াদ বা ‘লোন টেনিয়র’ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপর ওপর দেখতে গেলে মনে হতে পারে, মাসিক কিস্তি না বাড়ায় পকেটে টান পড়ল না। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যাঙ্কের এই কৌশলে আপনার পকেট থেকে নিঃশব্দে খসে যেতে পারে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ। তাই এই অবস্থায় আপনার কী করা উচিত— কিস্তির টাকা বাড়াবেন, নাকি মেয়াদ বাড়তে দেবেন? আসুন সহজ অঙ্কে বুঝে নেওয়া যাক।
ব্যাঙ্কের চাল এবং আসল অঙ্ক
ধরা যাক, আপনি ৮.৫ শতাংশ সুদে ২০ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকার হোম লোন নিয়েছেন। এই হিসেবে আপনার মাসিক কিস্তি বা EMI দাঁড়ায় ২৬,০৩৫ টাকা। ২০ বছর শেষে আপনার মোট পরিশোধিত সুদের পরিমাণ হওয়ার কথা প্রায় ৩২.৪ লাখ টাকা।
এখন সুদের হার ১ শতাংশ বেড়ে ৯.৫ শতাংশ হল। এই পরিস্থিতিতে আপনার সামনে দুটো পথ খোলা রয়েছে:
১. ইএমআই একই রেখে মেয়াদ বাড়ানো (ব্যাঙ্কের পছন্দের পথ): আপনার মাসিক কিস্তি ২৬,০৩৫ টাকাই থাকল, কিন্তু লোনের মেয়াদ বেড়ে হয়ে গেল ২৬ বছর ৮ মাস। অর্থাৎ আপনাকে অতিরিক্ত ৬ বছর ৮ মাস লোন টেনে যেতে হবে। এই অপশনে আপনাকে মোট সুদ দিতে হবে প্রায় ৪১.৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৯.১ লাখ টাকা বেশি সুদ গুণতে হবে আপনাকে।
২. মেয়াদ স্থির রেখে ইএমআই বাড়ানো (আপনার লাভের পথ): আপনি যদি লোন শোধের সময়সীমা ২০ বছরই রাখতে চান, তবে আপনার মাসিক কিস্তি বেড়ে হবে ২৭,৯৯২ টাকা। অর্থাৎ মাসে অতিরিক্ত ১,৯৫৭ টাকা দিতে হবে। এই হিসেবে ২০ বছর শেষে আপনার মোট সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৭.২ লাখ টাকা।
ফলাফল: দ্বিতীয় অপশনটি বেছে নিলে আপনার প্রায় ৪.৩ লাখ টাকা সরাসরি সাশ্রয় হবে এবং ৬ বছর আগে লোন পরিশোধের চিন্তামুক্ত জীবন পাবেন।
কী করবেন এই পরিস্থিতিতে?
-
আয় ঠিক থাকলে ইএমআই বাড়ান: আপনার যদি প্রতি মাসে বাড়তি ২-৩ হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য থাকে, তবে আজই ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে EMI বাড়িয়ে নিন। আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো গ্রাহকই সুদের হার বাড়লে কিস্তির পরিমাণ বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন।
-
এককালীন প্রিপেমেন্ট (Part-Prepayment): এই মুহূর্তে কিস্তির টাকা বাড়াতে সমস্যা হলে আপাতত মেয়াদ বাড়তে দিন। তবে বছর শেষে বোনাস বা ইনক্রিমেন্টের টাকা থেকে ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা লোন অ্যাকাউন্টে প্রিপেমেন্ট হিসেবে জমা করুন। এতে লোনের আসল টাকা কমে গিয়ে মেয়াদ আপনাআপনি কমে যাবে।
-
ব্যালেন্স ট্রান্সফার: আপনার বর্তমান ব্যাঙ্ক যদি বেশি সুদ দাবি করে, তবে বাজার যাচাই করুন। অন্য কোনো ব্যাঙ্ক কম সুদে লোন অফার করলে সেখানে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করার কথা ভাবুন। সুদের হারে সামান্য ০.৫ বা ০.৬ শতাংশের তফাৎ হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাখ টাকা বেঁচে যেতে পারে।
এক নজরে পরামর্শ: পকেটে বাড়তি টাকা থাকলে ইএমআই-এর অঙ্ক বাড়ান, আর সাময়িক টান থাকলে বছরে অন্তত একবার প্রিপেমেন্ট করুন। ব্যাঙ্কের কথামতো শুধু লোনের মেয়াদ বাড়তে দিলে আদতে লাভ হবে ব্যাঙ্কেরই, আপনার নয়।