দুটাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়! রোগীর পকেট কাটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপে কাঁপছে বড় ফার্মা কোম্পানিগুলি

অত্যাধিক চড়া দামের ওষুধ এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির লাগামছাড়া মুনাফার দৌরাত্ম্য রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। চিকিৎসকদের মোটা অঙ্কের কমিশন, বিদেশ ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল উপহার দিয়ে নিজেদের কোম্পানির অপ্রয়োজনীয় বা দামি ওষুধ প্রেসক্রাইব করানোর বেআইনি ও অনৈতিক মার্কেটিং প্রথা ঠেকাতে এবার কেন্দ্র সরকারকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ সাফ নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বিশেষ কমিটি ওষুধ কোম্পানিগুলির বিপণন ও মার্কেটিং পদ্ধতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কঠোর আইনি বিধিমালা তৈরির রূপরেখা তৈরি করবে। চিকিৎসকদের অনৈতিক উপায়ে প্রভাবিত করার প্রবণতা বন্ধ করতে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করার সুপারিশও জমা দেবে এই কমিটি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতামত বা আপত্তি বিবেচনা করেই এই চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত, যেখানে কেন্দ্রকে এই কমিটি গঠনের অগ্রগতি সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিট বা অনুपालन রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে মামলার শুনানিকালে ওষুধের পাইকারি বা প্রস্তুত মূল্য এবং তার খুচরা বিক্রয়মূল্য (MRP)-র আকাশচুম্বী ফারাক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত। একটি বাস্তব উদহারণ দিয়ে আদালত জানিয়েছিল, রিটেইলার বা বিক্রেতারা যে জীবনদায়ী ওষুধ মাত্র ২,৭০০ টাকায় পান, বাজারে তার এমআরপি বসানো হয় প্রায় ২৭,০০০ টাকা! ওষুধের দামে এই দশ গুণ বেশি মুনাফার কারবারকে সোজা ভাষায় ‘দিনের আলোয় রোগীর পকেট কাটা বা ডাকাতি’ বলে তোপ দেগেছিল বিচারপতিদের বেঞ্চ। পাশাপাশি, ক্যান্সার বা এ জাতীয় অত্যন্ত জরুরি জীবনদায়ী ওষুধের লাভের মার্জিন কেন ড্রাগস প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার ২০১৩-এর অধীনে মাত্র ১৬ শতাংশে সীমিত বা ক্যাপ করা হবে না, সেই প্রশ্নও সরকারের কাছে তুলেছিল আদালত।

উল্লেখ্য, ‘ফেডারেশন অফ মেডিকেল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনস অফ ইন্ডিয়া’ (FMRAI)-র করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। ওই পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বাজারে বিক্রির কোটা পূরণ করতে ফার্মা কোম্পানিগুলি ডাক্তারদের উপর নানা উপায়ে চাপ সৃষ্টি করে এবং অনৈতিক প্রলোভন দেখায়। যার ফলে চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে সাধারণ রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের সংবিধানপ্রদত্ত ‘স্বাস্থ্যের অধিকার’ (Right to Health)-কেই সরাসরি হরণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *