“বিরাট আউট হলে খেতেন না খাবার!”-জেনেনিন নানা পাটেকরের এই অজানা ক্রিকেট প্রেম সম্পর্কে

হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বুকে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। মেডিক্যাল টিম ও হাসপাতালের দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের চেষ্টার পরেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সকাল ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে যেমন শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র জগৎ, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেট হারিয়েছে তাঁর একনিষ্ঠ এক অনুরাগীকে।
শিবাজি পার্কের নেটে বল করা থেকে ক্রিকেটের প্রতি টান: অভিনয় জগতের বাইরে নানা পাটেকরের জীবনের বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল ক্রিকেট। ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর শৈশবের ক্রিকেট প্রেমের কথা শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ার কারণে প্রথাগত ক্রিকেট শেখার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি মুম্বইয়ের বিখ্যাত শিবাজি পার্কে চলে যেতেন এবং সেখানে নেটে প্র্যাকটিস করা ব্যাটসম্যানদের বল করতেন। তিনি নিজে একজন অফ স্পিন বোলার ছিলেন এবং মাত্র ১০ দিন প্র্যাকটিস করেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর বোলিংয়ের হাত কতটা ভালো। বয়সের প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছেও তাঁর মনের ভেতরে সেই চিরকালীন ক্রিকেটারটি বেঁচে ছিলেন।
বিরাট কোহলির অন্ধ ভক্ত: ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আবেগ ছিল নিখাদ। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির প্রতি তাঁর দুর্বলতা ছিল ভীষণভাবে চোখে পড়ার মতো। নানা পাটেকর নিজেই এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেছিলেন, ভারতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি দ্রুত আউট হয়ে গেলে তাঁর নাকি আর খেতেই ইচ্ছে করত না!
জীবন ও ক্রিকেটকে একই সুতোয় বাঁধতে ভালোবাসতেন এই অভিনেতা। ক্রিকেট এবং সিনেমার মধ্যে তুলনা টেনে তিনি একবার বলেছিলেন, এই দুটি ক্ষেত্রই আসলে এক একটি কঠিন পরীক্ষার মতো। যেখানে একজন ক্রিকেটারের লড়াই পাঁচ দিন ধরে চলে, তেমনই একজন অভিনেতার প্রজেক্টের পেছনেও দীর্ঘ পরিশ্রম জড়িয়ে থাকে।
ময়নাতদন্তের পর তাঁর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পর্দার খলনায়ক বা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা নানা পাটেকরের এই ক্রিকেট প্রীতি ও সরল জীবনযাপন চিরকাল স্মরণে রাখবে ভক্তরা।