হাত নেই তো কী হয়েছে! অন্নপ্রসাদ খেতে আসা প্রতিবন্ধী ভক্তকে নিজহাতে খাইয়ে মন জয় করলেন মন্দিরের কর্মী

মানুষের সেবাই যে ঈশ্বর সেবার শ্রেষ্ঠ রূপ, তার এক উজ্জ্বল ও হৃদয়স্পর্শী নজির সামনে এল অন্ধপ্রদেশ থেকে। রাজ্যের বিখ্যাত দ্বারকা তিরুমালা মন্দিরের অন্নপ্রসাদ কেন্দ্র থেকে সম্প্রতি এমন এক মানবিক ছবি ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন আপামর দেশবাসী। দুই হাত না থাকা এক প্রতিবন্ধী ভক্তকে পরম যত্নে নিজহাতে খাবার খাইয়ে তাঁর ক্ষুধা নিবারণ করেছেন মন্দিরেরই এক মহিলা কর্মী। এই নিঃস্বার্থ সেবার দৃশ্য নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নজর কাড়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুর।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ অক্টোবর এলুরু জেলার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী (দ্বারকা তিরুমালা) মন্দিরের অন্নপ্রসাদ হলে। অন্ধ্রপ্রদেশের এই প্রসিদ্ধ মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত অন্নপ্রসাদ গ্রহণ করতে আসেন। সেদিন সত্যনারায়ণ নামের এক প্রতিবন্ধী ভক্ত খাবার খেতে এলেও দুই হাত না থাকায় নিজে খেতে চরম সমস্যার মুখে পড়েন। তাঁকে অসহায় অবস্থায় বসে থাকতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন গায়ত্রী নামের মন্দিরের এক মহিলা কর্মচারী।

কোনো দ্বিধা বা সঙ্কোচ না করে সত্যনারায়ণের পাশে বসে পড়েন গায়ত্রী। এরপর পরম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নিজহাতে তাঁকে ভাত ও অন্যান্য পদ খাইয়ে দেন তিনি। অন্নপ্রসাদ হলে উপস্থিত অন্য এক ভক্ত এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যটি নিজের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। মুহুর্তের মধ্যে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায় এবং লক্ষ লক্ষ নেটিজেনদের চোখ ভিজিয়ে দেয়।

মুখ্যমন্ত্রীর স্যালুট ও প্রশংসার বন্যা
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মানবিক ভিডিওটি পৌঁছানোর পরেই গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। নিজের দাপ্তরিক ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে ভিডিওটি শেয়ার করে গায়ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সাবাশ গায়ত্রী! দ্বারকা তিরুমালার অন্নপ্রসাদ কেন্দ্রে হাতবিহীন প্রতিবন্ধী ভক্তকে নিজহাতে খাইয়ে দেওয়ার জন্য আমি তোমাকে আন্তরিকভাবে স্যালুট জানাই। ‘মানবতার সেবাই ঈশ্বরের সেবা’—তোমার এই মনোভাব সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।”

এদিকে শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের মানুষ গায়ত্রীর এই মহানুভবতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সমাজ মাধ্যমের দৌলতে এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মানুষের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা ও সহমর্মিতাই আজকের দিনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্ম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *