খাতা-কলমের দিন শেষ! আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের চমকপ্রদ পরীক্ষা, এআই চ্যাটবট বানিয়ে ফেলল পড়ুয়ারা

প্রচলিত লিখিত পরীক্ষার চিরাচরিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এক যুগান্তকারী ও অভিনব পদক্ষেপ নিল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ব্যাঙ্গালোর (আইআইএম ব্যাঙ্গালোর)। মুখস্থ বিদ্যা বা খাতা-কলমে উত্তর লেখার দিন শেষ করে এবার শিক্ষার্থীদের নিজস্ব এআই চ্যাটবট তৈরি করার দায়িত্ব দিল এই নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই চ্যাটবটের মাধ্যমেই পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বের করতে হয়েছে পড়ুয়াদের। বর্তমান জেনারেটিভ এআই-এর যুগে শিক্ষার্থীরা বাস্তব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারছে, তা যাচাই করতেই এই অভিনব মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
চলতি বছরের জুন-জুলাই সেশনে অনুষ্ঠিত এই মিডটার্ম মূল্যায়নে বিজনেস অ্যানালিটিক্স এবং জেনারেল এমবিএ ঐচ্ছিক কোর্সের মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, পড়ুয়াদের কলম ধরে উত্তর লেখার পরিবর্তে একটি নিজস্ব এআই চ্যাটবট তৈরি করতে হয়। সেই চ্যাটবটে যথাযথ নির্দেশনা বা প্রম্পট দেওয়ার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক পাঠ্য উপকরণও সরবরাহ করতে হয়েছিল তাদের। পরীক্ষার মোট ১৫টি প্রশ্নের উত্তর এই চ্যাটবটের সাহায্যেই প্রস্তুত করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের চ্যাটবটের একাধিক সংস্করণ পরীক্ষা করার সুযোগ পায়, যা থেকে তারা বুঝতে পারে যে প্রম্পট বা তথ্যের সামান্য পরিবর্তনে কীভাবে উত্তরের মানে তফাত ঘটে।
কীভাবে প্রস্তুত হয়েছিল এই বিশেষ প্ল্যাটফর্ম?
আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের ডিসিশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শুভব্রত মজুমদার এই মূল্যায়ন পদ্ধতিটি ডিজাইন করেন। শুধু তাই নয়, এর জন্য তিনি একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেন, যা ভার্সেল-এ (Vercel) হোস্ট করা হয়েছিল এবং এআই-ভিত্তিক কোডিং টুলের সাহায্যে প্রস্তুত করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্ল্যাটফর্মে আলাদাভাবে লগইন করার সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে তাঁরা নিজেদের চ্যাটবট তৈরি ও পরীক্ষা করেন। বিশেষ বিষয় হলো, যাদের কোডিংয়ের দক্ষতা খুব একটা ভালো নয়, তারাও এই প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরেছিল।
এআই তৈরি করলেও খাতা দেখেছে মানুষই
পরীক্ষায় উত্তর তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হলেও, খাতা দেখার বা মূল্যায়নের ভার এআই-এর হাতে সঁপে দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চূড়ান্ত উত্তরপত্রগুলো একজন শিক্ষক সহকারী (Teaching Assistant) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করেছেন, যার ফলে মূল্যায়নে মানুষের নিখুঁত বিচারবুদ্ধি ও মানবিক স্পর্শ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষামহল মনে করছে, আইআইএম ব্যাঙ্গালোরের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও পঠনপাঠনের ধরন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।