“যতক্ষণ না ভারত বিকশিত হচ্ছে, আমি থামব না!” ২৫ বছর পূর্তিতে বিরোধীদের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ মোদীর

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ারে বসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেখতে দেখতে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সরকারপ্রধান হিসেবে সফলভাবে পূর্ণ হলো তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের মেয়াদ। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উপলক্ষে বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-য় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও প্রশাসনিক যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ভারতীয়দের বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিন্দুমাত্র থামবেন না।
“আমি থামব না, ক্লান্ত হব না”: দূরদর্শী অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “যতক্ষণ না ভারত বিকশিত ভারত হয়, ততক্ষণ আমি থামব না, ক্লান্ত হব না।”
উল্লেখ্য, ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে দেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উচ্চ-আয়ের ও উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তর করার মেগা ভিশন নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই অবিচল অঙ্গীকার বিজেপির সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।
উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধীদের কড়া বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে উত্তাল দেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে বিরোধীরা যখন দেশজুড়ে সরব ও আন্দোলনমুখী, ঠিক সেই সময় দাঁড়িয়ে মোদী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতি দ্ব্যর্থহীন বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিরোধী আন্দোলন বা সামাজিক বাধা যাই আসুক না কেন, দেশের সামগ্রিক রূপান্তর ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই পথ থেকে তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটবেন না। জীবনের ২৫ বছর জনগণের সেবায় উৎসর্গ করার এই বিশেষ দিনে ভারতের উন্নয়নযাত্রাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।