১,৫৫ টাকার ডাস্টবিন কেনা হলো ১৫,৫০০ টাকায়! সরকারি হাসপাতালে ৩০৭ কোটির মেগা কেলেঙ্কারি

বিহারের সরকারি হাসপাতালগুলিতে বায়োমেডিকেল বর্জ্য নিষ্কাশন সামগ্রী কেনার নামে কোটি কোটি টাকার মহা-দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিপুল দামে মাইক্রোওয়েভ ডাস্টবিন এবং বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ কেনার এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে মামলা গড়িয়েছে পাটনা হাইকোর্টে।

বিহারে সরকারি কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা ‘বিহার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার কর্পোরেশন লিমিটেড’ (BMSICL)-এর মাধ্যমে আয়োজিত এই টেন্ডারে কোটি কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগ শুনে কড়া অবস্থান নিয়েছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি ভি. কামেশ্বর রাও এবং বিচারপতি পার্থ সারথীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানিতে রাজ্য সরকারকে আগামী ১৯শে নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ও জবাব দাখিল করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

বাজারদরের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দাম! চাঞ্চল্যকর অভিযোগের খতিয়ান
আবেদনকারী কৌশলেশ কুমারের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় (PIL) তাঁর আইনজীবী সঞ্জীব কুমার মিশ্র আদালতে বিএমএসআইসিএল-এর কেনাকাটায় বাজারমূল্যের তুলনায় আকাশছোঁয়া গরমিল তুলে ধরেন। মামলার নথি অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ের হিসেব ছিল নিম্নরূপ:

৭৫ লিটারের ডাস্টবিন: খোলা বাজারে যার আনুমানিক দাম ১,৫৫০ টাকা, সরকারিভাবে তা কেনা হয়েছে ১৫,৪৯০ টাকা দিয়ে।

৪৫ লিটারের ডাস্টবিন: ১,১৬২ টাকার বাজারদরের ডাস্টবিন কেনা হয়েছে ১১,৪৭৪ টাকায়।

৭৫ লিটারের পচনশীল ব্যাগ: প্রতি ব্যাগ ৮.৫০ টাকার বদলে কেনা হয়েছে ৯৮ টাকায়।

৪৫ লিটারের পচনশীল ব্যাগ: প্রতি ব্যাগ ৫.৭৫ টাকার বদলে খরচ দেখানো হয়েছে ৬৯ টাকা!

৩০৭ কোটির কাজ শেষ হলো লখনউয়ের সংস্থাকে দিয়ে!
আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের ১৮ই এপ্রিলের মধ্যে এই পণ্যগুলি সরবরাহের জন্য মোট ৫৭টি পৃথক পারচেজ অর্ডার বা সাপ্লাই অর্ডার জারি করা হয়েছিল। ১৮% জিএসটি সহ যার মোট বাজেট দাঁড়ায় প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা।

অথবা অন্য চারটি স্বীকৃত সরবরাহকারী সংস্থার দরপত্র ও বাজারের চলতি মূল্য অনুযায়ী এই সমস্ত উপকরণের প্রকৃত মোট খরচ হওয়া উচিত ছিল মাত্র ২৯ কোটি টাকা! অংকের এই বিশাল ফারাক থাকা সত্ত্বেও পুরো সরবরাহের এই বিশাল চুক্তিটি তুলে দেওয়া হয়েছিল লখনউ-ভিত্তিক ‘এসএস মেডিকেল সিস্টেমস’ নামক একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে।

১৯ নভেম্বরের জল কোন দিকে গড়ায়?
এর আগে গত ৮ই সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল। এবার আগামী ১৯শে নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে তাদের চূড়ান্ত জবাব পেশ করতে বলা হয়েছে।

তবে আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই সমস্ত দাবিই আপাতত জনস্বার্থ মামলায় করা আবেদনকারীর প্রাথমিক অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কেনাকাটার গুণগত মান, বিশেষ কারিগরি শর্ত এবং প্রকৃত কত টাকা দেওয়া হয়েছে—তা রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাবে স্পষ্ট হওয়ার পরেই জল কোন দিকে গড়ায়, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *