মধ্যবিত্তের পকেটে টান! রেপো রেট বাড়াল আরবিআই, ১০ লাখের ঋণে মাসে কত টাকা বেশি ইএমআই গুনবেন?

এক ধাক্কায় অনেকটাই দামি হতে চলেছে আপনার স্বপ্নের গাড়ি কেনা কিংবা ইএমআই মেটানোর খরচ। দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এর ফলে আরবিআই-এর রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে সরাসরি বেড়ে দাঁড়াল ৫.৫০ শতাংশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিও তাদের আমানত ও ঋণের সুদের হার বাড়াতে শুরু করতে পারে। ফলে যাঁরা পরিবর্তনশীল সুদের হারে (Floating Interest Rate) নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন কিংবা ইতিমধ্যেই লোন নিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের মাসিক ইএমআই-এর (EMI) ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে।

১০ লক্ষ টাকার কার লোনে কেমন প্রভাব পড়বে? (সহজ উদাহরণ)
তবে মনে রাখতে হবে, রেপো রেট বাড়লেও সমস্ত গ্রাহকের ইএমআই কিন্তু একই অঙ্কে বাড়বে না। সুদের হার কতটা বদলাবে তা নির্ভর করবে ঋণের পরিমাণ, বর্তমান সুদের হার, লোনের মেয়াদ ও ব্যাংকের রিসেট নীতির ওপর।

ধরুন, আপনি ৯% সুদের হারে ৫ বছরের (৬০ মাস) জন্য ১০ লক্ষ টাকার কার লোন নিয়েছেন।

আগের ইএমআই: প্রায় ২০,৭৫৮ টাকা।

রেপো রেট বাড়ার পর ইএমআই: ব্যাংক যদি সুদের হার বাড়িয়ে ৯.২৫% করে, তবে আপনার নতুন ইএমআই দাঁড়াবে প্রায় ২০,৮৭৫ টাকা।

বাড়তি খরচ: প্রতি মাসে কিস্তি বাবদ আপনাকে প্রায় ১১৭ টাকা বেশি গুণতে হবে। যা বছরে হিসেব করলে দাঁড়াবে প্রায় ১,৪০৪ টাকা।

(উল্লেখ্য: এটি কেবল একটি আনুমানিক উদাহরণ। প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব ও শর্তাবলী অনুযায়ী এই অঙ্কে হেরফের হতে পারে।)

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কারা?
ফ্লোটিং রেট ও এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লোন: আরবিআই-এর সুদের হার পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত পড়ে যাঁদের ঋণ ‘ফ্লোটিং রেট’-এ রয়েছে এবং যাদের ব্যাংক লোন আরবিআই-এর রেপো রেট বা অন্য কোনো বাহ্যিক বেঞ্চমার্কের (EBLR) সাথে সরাসরি যুক্ত। তাঁদের ইএমআই প্রায় সাথে সাথে বেড়ে যায়।

ফিক্সড রেট লোন (Fixed Rate Loans): যাঁদের লোন নির্দিষ্ট বা ফিক্সড সুদের হারে নেওয়া রয়েছে, রেপো রেট বাড়লেও তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আরবিআই-এর সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের ইএমআই-তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসবে না।

নতুন লোন নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞদের এই ৬টি পরামর্শ মেনে চলুন
যদি আপনি বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কার লোন বা অন্য কোনো ঋণ নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে নিচের বিষয়গুলি অবশ্যই মাথায় রাখুন:

১. ক্রেডিট স্কোর যাচাই করুন: ব্যাংকে আবেদন করার আগে নিজের সিবিল বা ক্রেডিট স্কোর দেখে নিন। ৮০০-এর ওপরে ভালো স্কোর থাকলে ব্যাংক থেকে কম সুদের হারে লোন পাওয়ার সুযোগ থাকে।

২. সুদের হার নিয়ে নেগোসিয়েশন করুন: ব্যাংক প্রথমে যে সুদের প্রস্তাব দেবে, তা অন্ধের মতো মেনে নেবেন না। নিজের ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি দেখিয়ে ব্যাংকের সাথে সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা করুন।

৩. অন্যান্য ব্যাংকের সাথে তুলনা করুন: কেবল পুরনো ব্যাংকের ওপর ভরসা না রেখে বাজার চলতি অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইএমআই ও শর্তাবলী তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

৪. লুকোনো খরচ বা হিডেন চার্জ জানুন: কেবল কম সুদের প্রলোভনে পা দেবেন না। প্রসেসিং ফি, প্রি-পেমেন্ট পেনাল্টি বা লেট ফি-র মতো অতিরিক্ত ফিগুলি আগে থেকেই জেনে নিন।

৫. কোম্পানির কর্পোরেট সুবিধা নিন: আপনি যেখানে কাজ করেন, সেই সংস্থার কোনো ব্যাংকের সাথে বিশেষ টাই-আপ বা বিশেষ স্কিম আছে কিনা খোঁজ নিন।

৬. বাজেট অনুযায়ী ইএমআই নির্ধারণ করুন: আপনার মাসিক আয় ও পরিবারের অন্যান্য আনুমানিক খরচের হিসাব কষে তবেই এমন একটি ইএমআই বেছে নিন যা প্রতি মাসে স্বাচ্ছন্দ্যে পরিশোধ করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *