যুবভারতীতে উরুগুয়ের ৬ গোল, তাও ঐতিহাসিক গোল উদযাপনে কেন আবেগঘন অনিরুদ্ধ থাপা? নেপথ্যে এক মিষ্টি সুখবর

৩টি অত্যন্ত নজরকাড়া ও ভাইরাল শিরোনাম:“আমি বাবা হতে চলেছি!” উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গোলের পর যুবভারতীতে চোখে জল থাপারকলকাতায় দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি ভারত! ৬ গোল হজম করলেও অনিরুদ্ধের অবিশ্বাস্য শটে তোলপাড় যুবভারতী ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর এবার কার মুখোমুখি ব্লু-টাইগার্স? উরুগুয়ে ম্যাচে হারলেও কেন আবেগবিহ্বল থাপা! যুবভারতীতে উরুগুয়ের ৬ গোল, তাও ঐতিহাসিক গোল উদযাপনে কেন আবেগঘন অনিরুদ্ধ থাপা? নেপথ্যে এক মিষ্টি সুখবর ক্রীড়া ও ময়দান ডেস্ক (DailyHunt): কলকাতার ঐতিহাসিক বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রচিত হলো এক অম্লমধুর বিকেল। লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি তথা দু-বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দল উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দল। হাইভোল্টেজ এই ফিফা প্রীতি ম্যাচে ব্লু-টাইগার্সদের ৬-১ ব্যবধানে পরাস্ত করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে উরুগুয়ে। তবে এত বড় ব্যবধানে হারের পরেও পুরো যুবভারতী মাতিয়ে রাখলেন ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয় অনিরুদ্ধ থাপা। ম্যাচের ২২ মিনিটে দুইবারের বিশ্বজয়ী দলের বিশ্বসেরা রক্ষণভাগকে চুরমার করে ভারতের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন থাপা। গোলের পর তাঁর আবেগঘন উদযাপন নজর কেড়েছে ফুটবল বিশ্বের।“এই গোল আমার সন্তানের জন্য!”ম্যাচ শেষে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই মহাকাব্যিক গোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনিরুদ্ধ। ব্যক্তিগত জীবনের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আনন্দদায়ক মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। কয়েকদিন আগেই এই সুখবরটা পেয়েছি। তাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে এই গোল আমার কাছে অনেক অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আসলে এই মুহূর্তটা আমার সারাজীবন হৃদয়ে থেকে যাবে।”তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ব্রাজিলের মতো বিশ্ব সেরা দল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে টানা খেলেছি। আমরা কখনোই শুধু রক্ষণে গোল ঠেকানোর চেষ্টা করিনি, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি। হ্যাঁ, আমরা হয়তো হেরেছি, কিন্তু লড়াই ছেড়ে দিইনি।” যেভাবে এলো ঐতিহাসিক গোল ম্যাচের শুরুর দিকেই ১২ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন ডারউইন নুনিয়েজ। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ভারত। ২২ মিনিটের মাথায় রায়ান উইলিয়ামসের চমৎকার আক্রমণ থেকে উরুগুয়ের গোলরক্ষক থিয়াগো কার্ডোজো বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ক্ষিপ্র গতিতে সুযোগ নেন থাপা। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে যুবভারতীর হাজার হাজার দর্শককে উচ্ছ্বাসে ভাসান তিনি। তবে বিরতির ঠিক আগে বজ্রপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খেলা বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। খেলা পুনরায় শুরু হতেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয় উরুগুয়ে এবং পর পর গোল করে ১-৬ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। হেরেও ইতিবাচক ব্লু-টাইগার্সমাত্র চারদিনের ব্যবধানে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বের দুই পরাশক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নামা যে কোনো দলের জন্যই বিরাট শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ শেষে থাপা স্পষ্ট জানান, “ক্লান্তি থাকবেই, কিন্তু সেটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ম্যাচ থেকে কখন খেলার গতি বাড়াতে হবে বা কখন প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগাতে হবে—সেই পাঠ শিখলাম। এই শিক্ষা আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলকে আরও পরিপক্ক করবে।”বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে স্কোরের ব্যবধান বড় হলেও, অনিরুদ্ধ থাপার এই ঐতিহাসিক গোল ও তাঁর ব্যক্তিগত সুখবর ভারতীয় ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে বহুদিন অমলিন থাকবে।