সাতসকালে এন্টালিতে রোমহর্ষক কাণ্ড! বন্ধ অ্যাপ ক্যাবে মিলল পা বাঁধা দেহ, এ যেন রহস্য থ্রিলার!

শারদীয় আবহের মাঝেই সাতসকালে খাস কলকাতার বুকে এক গা শিউরে ওঠা রোমহর্ষক ঘটনা। এন্টালি থানা এলাকার ট্যাংরায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ অ্যাপ ক্যাবের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ট্যাংরা ও পিলখানা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্যাব চালককে আটক করে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এন্টালি থানার পুলিশ।

দড়ি দিয়ে বাঁধা পা, ক্যাবের মেঝেতে নিথর দেহ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিলখানা এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে অস্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল একটি সাদা রঙের অ্যাপ ক্যাব। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় এক গ্যারেজ মেকানিকের সাহায্যে গাড়ির দরজা খোলে পুলিশ। তখনই দেখা যায়, পেছনের আসনের সামনের মেঝের অংশে পড়ে রয়েছেন আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, ওই ব্যক্তির শরীরে কোনো সাড়াশব্দ বা নাড়ির স্পন্দন ছিল না। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—মৃত ব্যক্তির দুটি পা শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। এই দৃশ্য থেকেই পুলিশ প্রায় নিশ্চিত যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং অন্য কোথাও খুন করে দেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে গাড়িতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।

অকুস্থলে হোমিসাইড স্কোয়াড ও সায়েন্টিফিক উইং
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের লালবাজারের হোমিসাইড স্কোয়াড, সায়েন্টিফিক উইং এবং ডিডি (গোয়েন্দা বিভাগ)-র বিশেষ টিম। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্টরা গাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ওই ব্যক্তি কীভাবে ক্যাবের ভেতর এলেন, তাঁর আসল পরিচয় কী, এবং কে বা কারা তাঁর পা বেঁধে গাড়িতে ফেলে রেখে গেল—তা জানতে আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওদিকে শারজায় প্রবাসীর ৯ টুকরো দেহ উদ্ধার!
কলকাতা শহরের এই মর্মান্তিক ঘটনার আবহেই আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের আরও এক ভয়াবহ খবর সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) শারজায় একটি পার্ক করা পরিত্যক্ত গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কর্ণাটকের বাসিন্দা প্রবাসী অলউইন প্রকাশ কুন্দরের (৩৮) টুকরো টুকরো দেহ।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত দু’মাস ধরে নিখোঁজ থাকা অলউইনের দেহ দুটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর মোট ৯টি টুকরো করে ভরা অবস্থায় পাওয়া যায়। রহস্য আরও বাড়িয়ে অলউইনের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্ত্রী ও নাবালক ছেলে বেপাত্তা। মৃতের পরিবারের সন্দেহ, দাম্পত্য কোন্দল বা কোনো পারিবারিক চক্রান্তের জেরেই গত জুলাই মাসে শারজা বিমানবন্দরের কর্মী অলউইনকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

কলকাতার এন্টালি থেকে শুরু করে বিদেশের মাটিতে—গাড়ি থেকে একের পর এক রহস্যময় দেহ উদ্ধারের এই পর পর ঘটনায় স্বভাবতই সাধারণ মানুষের মনে ভিড় করছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *