এসআইআর ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়! ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম কাটার চক্রান্ত, ফাটল বিজেপির বিএলএ-র কীর্তি

বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই পথে নেমে জোরদার আন্দোলন শুরু করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই উত্তপ্ত আবহেই তেলেঙ্গানায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো—ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে ৩০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) এক বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত বিজেপি বিএলএ-র নাম এস বালাচন্দর। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে।

কীভাব চেষ্টা করা হয়েছিল নাম বাতিলের?
পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মুশিরাবাদ বিধানসভা এলাকার ৩০ জন বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই ছাপানো ‘ফর্ম-৭’ (Form-7) আবেদনপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা এস বালাচন্দর।

পরবর্তীতে বুথ লেভেল অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, যে ৩০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল, তাঁরা সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

কমিশনের কড়া পদক্ষেপ ও আইনি মামলা
ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিচার করে মুশিরাবাদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) টি প্রবীণ কুমার রেড্ডি নিজে উদ্যোগী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।

তাঁর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিজেপি বিএলএ-র বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ফৌজদারি অপরাধের ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

একদিকে যখন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব তুলে ধরে বিরোধীরা চরম বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিজেপির বিএলএ-র বিরুদ্ধে আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার এই গুরুতর অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও স্থানীয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *