‘স্কুলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতাম,’ বললেন মোদী, ‘ ২৫ বছর পূর্তিতে আবেগঘন প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রধান হিসেবে একটানা সফল ২৫ বছর সম্পন্ন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতি নিজের অটুট দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় প্রকাশ করলেন তিনি। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নত রাষ্ট্র’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর এই মহা-লক্ষ্য অর্জনে মোদীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো নয়া স্লোগান—‘উই উইল ডু ইট’ (We Will Do It – আমরাই এটা করে দেখাব)।

‘আমি এখনও শেখার খিদে থাকা একজন ছাত্র’

মঙ্গলবার ‘উন্নত ভারত সংকল্প সভা’-তে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মৃতির পাতা উল্টে শৈশবের ভাদনগরের দিনগুলোর কথা মনে করেন।

মোদী বলেন, “আমার স্পষ্ট মনে আছে, ভাদনগরের স্কুলে যখন পড়তাম, আমাদের শিক্ষকেরা বহু রকম উপায়ে নতুন পাঠ শেখাতেন। আর যারা ক্লাসে সবার আগে পৌঁছাত, তাদের তালিকায় আমার নাম সবসময় থাকত।” তিনি যোগ করেন, শৈশবে শেখার যে অদম্য আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা আজও কমেনি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিন তিনি কল্পনাতীত ছিলেন যে, একদিন ২৫ বছর ধরে দেশের সেবা করার এত বড় দায়িত্ব পাবেন।

জয়-পরাজয়, সমালোচক ও ধৈর্য্যের পরীক্ষা

নিজের ২৫ বছরের রাজকীয় পথচলা পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তাঁর জীবনের কোনো অভিজ্ঞতাই বৃথা যায়নি:

  • জয় ও পরাজয়: “যারা আমাকে জিতিয়েছেন, তারা আমাকে বিনয়ী ও নম্র হতে শিখিয়েছেন। আর যারা পরাজিত করেছেন, তারা শেখাচ্ছেন কীভাবে পড়ে গিয়ে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে হয়।”

  • সমালোচকদের ভূমিকা: শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেমন তাঁকে উৎসাহিত করেছেন, তেমনই সমালোচকেরা প্রতিনিয়ত নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার এবং আত্মসমালোচনার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন।

  • ধৈর্য্য ও দায়বদ্ধতা: প্রতিটি বড় সংকট যেমন ধৈর্য্যের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে, তেমনই প্রতিটি সাফল্য ঘাড়ে নতুন দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্র, সংবিধান ও ১৪০ কোটি দেশবাসীকে প্রণাম

গত আড়াই দশকে লোকসভা ও একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বারংবার তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই সাফল্যের জন্য বিজেপি, এনডিএ জোটের সব সহকর্মী, সংবিধান এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের অসীম ক্ষমতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম নিবেদন করেন।

দিনের শুরুতেই দিল্লির বিখ্যাত শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পূজার্চনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, গণপতির চরণে তিনি ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছেন। একইসঙ্গে দেশমাতৃকার সেবা করার জন্য যেন নিজের শরীর ও মনের শক্তি অটুট থাকে, সেই আশীর্বাদও চেয়েছেন। পঁচিশ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসকে পেছনে রেখে এবার ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণেই পাখির চোখ প্রধানমন্ত্রীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *