স্কুল বন্ধ করে শিক্ষক ছাঁটাই! ডিএসপি-কে বিরাট শিক্ষা দিয়ে ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) পরিচালিত একাধিক বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় এবার ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চাকরি হারানো শিক্ষকদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়ে উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে—ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকদের প্রতি বছর কাজের হিসেব অনুযায়ী ১.৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ মেটাতে হবে ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে। নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ না করলে দিতে হবে অতিরিক্ত সুদ।
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম প্রকাশ রাইয়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ নির্দেশ প্রদান করেছে।
পটভূমি ও ৫৬ বছরের ইতিহাস:
দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অধীনে এক সময় চালু ছিল দুর্গাপুর ইস্পাত হাইস্কুল এবং শিবাজী রোড ডিএসপি বয়েজ হাইস্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৫৬ বছর আগে পথচলা শুরু করা এই স্কুলগুলিতে সিবিএসই এবং পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ ছিল। ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই স্কুলগুলিতে বেশ কিছু পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করা হয়। প্রথম দিকে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪৫ জন শিক্ষক দায়িত্ব সামলাতেন।
দৈনিক ১৫০ টাকা ভাতা দিয়ে কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ১৬ জন শিক্ষককে কাজ থেকে বসিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে পুরো স্কুলটিই পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ক্যাট থেকে হাইকোর্ট—আইনি লড়াই ও বড় জয়:
চাকরি হারিয়ে প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে (CAT) বিচার চেয়েছিলেন ওই শিক্ষকরা। কিন্তু ২০২৫ সালে ক্যাটের তরফ থেকে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হলে, চাকরিহারারা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
মামলাকারীদের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানান, “২০১৫ সালে স্কুলটি বন্ধ হওয়ার আগেই ধাপে ধাপে শিক্ষকদের ছাঁটাই শুরু হয়েছিল। হাইকোর্টের বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ছাঁটাই হওয়ার আগে পর্যন্ত শিক্ষকরা যতদিন সেখানে শিক্ষকতা করেছেন, সেই বছরগুলির ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই অর্থমূল্যের ওপর বছরে ৬ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে।”
আদালতের কড়া আল্টিমেটাম:
হাইকোর্টের নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সুদে-আসলে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ শিক্ষকদের হাতে তুলে দিতে হবে। নির্ধারিত ৪৫ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে ক্ষতিপূরণের অর্থের ওপর অতিরিক্ত ৬ শতাংশ জরিমানা সুদ যুক্ত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা ও আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকরা।