মাঝ আকাশে পাইলট-কো পাইলটের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ! ভেসে যাচ্ছে রক্তের নদী, তারপর কী ঘটল ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানে?

মাঝ আকাশে তখন চার হাজার ফুট ওপরে উড়ছে ‘ফ্লাই দুবাই’-এর বিমান। আচমকাই আতঙ্কের আর্তনাদে কেঁপে উঠল পুরো কেবিন। ককপিটে সহকারী পাইলটের অতর্কিত ছুরি হামলায় রক্তে ভেসে যাচ্ছেন প্রধান ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। চরম মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কীভাবে অলৌকিকভাবে বাঁচল বিমানে থাকা ১৭৯ জন সাধারণ যাত্রীর প্রাণ? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই অভিশপ্ত দিনের রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন বিমানে থাকা ইজরায়েলের জর্জিয়ার বাসিন্দা তথা পেশায় দন্তচিকিৎসক শুতা মুসায়েভ।

ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক মুসায়েভ জানান, দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার প্রথম দিকে পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু হঠাৎই চিৎকার ও আর্তনাদে চারপাশ তছনছ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা কয়েকজন দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যাই। দরজার ওপারে দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছিলাম—এক হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে বসে আছে কো-পাইলট, আর রক্তে ভেসে মেঝেতে লুটিয়ে আছেন প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর। আমরা প্রথমে ক্ষিপ্রতার সাথে হামলাকারীকে কাবু ও নিরস্ত্র করি।”

পিঠে, ঘাড়ে ও পেটে গভীর ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত। রক্তপাত না থামায় তাঁকে সজাগ রাখাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মুসায়েভ জানান, “আমি বারবার ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে বলতে থাকি—আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন না! আমাদের সকলের আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন।”

যাত্রীদের মধ্যে জঙ্গি আতঙ্ক ও ‘দেবদূত’ দুই পাইলট:
ততক্ষণে বিমানে ব্যাপক হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। বিমান দুলতে থাকায় যাত্রীরা ভেবে বসেন প্লেনের ভেতরে হয়তো সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হামলা চালিয়েছে কেউ। তবে এই চূড়ান্ত নৈরাজ্যের মাঝেই যাত্রীদের মধ্য থেকেই ‘দেবদূত’-এর মতো এগিয়ে আসেন দুজন ব্যক্তি। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁরাও পেশায় অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন! তাঁরা অবিলম্বে ককপিটে ঢুকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন এবং সৌদি আরবে সফল জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করান। বিমান অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আহতদের তুলে দিয়ে বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সবাই।

এখন কেমন আছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত?
বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা গেছে, রক্তক্ষয়ী আক্রমণের শিকার হওয়া ভারতীয় ওই পাইলটের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল। মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচারের পর সৌদি আরবের একটি বিশেষ হাসপাতালে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসায় তিনি ইতিবাচক সাড়াও দিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে স্মিতের পরিবারকে তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি প্রদান করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *