“জামানত বাঁচিয়ে দেখান!” সেলিনকে নজিরবিহীন চ্যলেঞ্জ শুভেন্দুর, নন্দীগ্রাম-রেজিনগর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি!

রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে দলের বিপুল জয় নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। শুভেন্দুর স্পষ্ট দাবি, এই দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে তৃণমূল কিংবা বামেদের কোনো প্রকার রাজনৈতিক অস্তিত্বই নেই।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। অন্যদিকে রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনো জায়গা নেই। সিপিএম তো পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে নোটার (NOTA) নিচেও নেমে যেতে পারে।”

সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটে বড় চমক:
রেজিনগরে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এবার ভোট দিতে না আসায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট কম পড়েছে এবং ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটদান হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সেখানে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট যে বিজেপির দিকেই ঝুঁকেছে, তা পরিসংখ্যান তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে আমাদের সরকার কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ করেনি। ১ কোটি ৫৮ লক্ষ অন্নপূর্ণা প্রাপকদের মধ্যে ২৪ লক্ষই মুসলিম মহিলা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁদের ৯০ শতাংশের বেশি সমর্থন এবার বিজেপি পেয়েছে। এছাড়া ১৭ হাজার আবাসের তালিকার মধ্যেও ১০ হাজারের বেশি পরিবার সংখ্যালঘু।” সরকারের এই সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে রেজিনগরে দলের প্রার্থী ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোটে এবং নন্দীগ্রামে গতবারের চেয়ে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি ব্যবধানে জিতবে বলে দাবি করেন তিনি।

মহম্মদ সেলিমকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ও খোলা চ্যালেঞ্জ:
বামেদের রিগিংয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে তোপ দাগেন শুভেন্দু। সেলিমের একাধিক পরাজয়ের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “উনি ২০১৯-এ রায়গঞ্জে, ২০২১-এ চণ্ডীতলায় এবং ২০২৪-এ মুর্শিদাবাদে হেরেছেন। যেখানে মুসলিম ভোট বেশি থাকে, বেছে বেছে কেবল সেখানেই দাঁড়ান। অথচ মুখে বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি!”

এরপরই সেলিমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি উনাকে বলব পরবর্তী কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে অন্তত কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে জামানত বাঁচিয়ে দেখান! যদি জামানত ধরে রাখতে পারেন, তবেই বুঝব উনি বিরাট মাপের নেতা।”

ভুয়ো অভিযোগে আইনি মামলা ও পুরসভা নির্বাচন:
শাসকদলের আইটি সেলকে কড়া বার্তা দিয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, নির্বাচন কমিশন (CEO) এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে ভুয়ো অভিযোগ তোলার কারণে নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জোড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই সাথে আসন্ন পুরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই রাজ্যের বকেয়া পুরসভাগুলির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ সরকার কেবল পরিকাঠামোগত সহযোগিতা জোগায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *