RailOne অ্যাপে এলো বিরাট বদল! একই সাথে ৫ জনের জন্য সিজন টিকিট কাটার সুবিধা চালু রেলের

ট্রেনযাত্রীদের ডিজিটাল সফর আরও সহজ ও আরামদায়ক করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। এবার থেকে সাধারণ লোকাল ও ইএমইউ ট্রেনের যাত্রীরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও এক ক্লিকেই সিজন টিকিট বুক করতে পারবেন। ‘RailOne’ অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে নতুন ‘শেয়ারযোগ্য ইউটিএস সিজন টিকিট’ (Shareable UTS Season Ticket) ফিচার।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে যাত্রীদের টিকিট কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। রেলের এই আধুনিকায়নে টিকিটিং ব্যবস্থা যেমন দ্রুত হবে, তেমনই সহজ হবে সিজন টিকিট বুক করার পুরো প্রক্রিয়া।
নতুন অ্যাপ নিয়মে কী কী সুবিধা ও শর্ত থাকছে?
টিকিটের সংখ্যা ও বয়সের সমীকরণ: একজন রেজিস্টার্ড অ্যাপ ব্যবহারকারী নিজের জন্য ১টি সিজন টিকিট এবং পরিবারের সদস্য বা অন্য যেকোনো যোগ্য যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ আরও ৫টি সিজন টিকিট কাটা বা ইস্যু করার সুযোগ পাবেন। নিজের টিকিট কাটতে হলে যাত্রীর সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে, তবে অন্যদের জন্য বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়সসীমা হতে হবে ৫ বছর।
কখন থেকে কার্যকর হবে টিকিট?: নিজের জন্য বুক করা সিজন টিকিট জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing) যাচাই সম্পন্ন হলে সে দিন থেকেই কার্যকর হবে। কিন্তু অন্য যাত্রীদের নামে কাটা টিকিটটি পরদিন থেকে ব্যবহারের যোগ্য হয়ে উঠবে।
জালিয়াতি রুখতে ছবি ও QR কোডের কড়াকড়ি: টিকিট পরীক্ষা ও যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ‘শেয়ারযোগ্য সিজন টিকিট’-এ যাত্রীর স্পষ্ট ছবি এবং একটি নির্দিষ্ট QR কোড সংযুক্ত থাকবে। টিটিই (TTE) বা টিকিট পরীক্ষকরা সরাসরি তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইসে থাকা অ্যাপ দিয়ে এই QR কোড স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
ভ্রমণের সময় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা বাধ্যতামূলক?
রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাত্রার সময় টিকিটের স্পষ্ট প্রিন্ট কপি কিংবা মোবাইলে সংরক্ষিত পিডিএফ (PDF) সংস্করণ সাথে রাখতে হবে। তবে মনে রাখা জরুরি, RailOne অ্যাপের বুকিং রসিদ বা ইউটিএস পেপার টিকিটের সাধারণ কপি বৈধ নথি হিসেবে গ্রাহ্য হবে না।
এছাড়া, টিকিটের প্রিন্ট কপি কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা QR কোডটি যেন কোনোভাবেই অস্পষ্ট, বিকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত না থাকে। টিটিই চেকিংয়ের সময় QR কোড স্ক্যান করা সম্ভব না হলে, সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে রেলের প্রচলিত আইনি বিধি অনুযায়ী ‘টিকিটবিহীন যাত্রী’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নির্ধারিত জরিমানা দিতে হতে পারে।
ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেন ও স্টেশনের চেকিং স্কোয়াডকে এই নতুন ব্যবস্থা এবং আপডেটেড হ্যান্ড-হেল্ড টার্মিনাল (HHT) অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।