জয়নগরে ভোটার তালিকা থেকে ৫,৬৯৮ নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা! ভুয়ো ফর্ম জমা দেওয়ায় এফআইআর

কর্ণাটকের জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ভোটারের নাম জালিয়াতি করে বাদ দেওয়ার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দুই বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে কর্ণাটক মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা জয়নগরের প্রাক্তন বিধায়ক সৌম্যা রেড্ডির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু করা হয়। উল্লেখ্য, সৌম্যা ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন।
কী অভিযোগ এফআইআরে?
পুলিশ সূত্রে খবর, কর্ণাটকে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলার সময় বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে ‘ফর্ম ৭’ জমা দেওয়া হয়। সাধারণত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নাম তোলার ওপর আপত্তি জানাতে এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শকে সুযোগ করে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা হয়। দাবি করা হয় যে ৫ হাজার ৬৯৮ জন ভোটার স্থায়ীভাবে ওই বিধানসভা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
সৌম্যা রেড্ডির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, রামকৃষ্ণ এবং যোগেশ নামে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত দুই বিএলএ ও তাঁদের সঙ্গীরা এই জালিয়াতির নেপথ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং যে সমস্ত ভোটাররা বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলগুলিকে ভোট দেন না বলে মনে করা হচ্ছিল, তাঁদেরই প্রধানত টার্গেট করা হয়েছে।
জালিয়াতির নজিরবিহীন কৌশল
অভিযোগে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে:
অন্যের তথ্য অপব্যবহার: সি রমেশ এবং তাঁর স্ত্রী রূপা নামের দুই নাগরিকের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য তাঁদের অজান্তেই ব্যবহার করা হয়। তাঁদের নামেই বিএলও-র কাছে ‘ফর্ম ৭’ জমা দেওয়া হয়।
ভুয়ো স্বাক্ষর: বিএলও লোকেশের কাছে যে ফর্মগুলি জমা পড়েছিল, সেগুলিতে ভুয়ো বা জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেঙ্গালুরুর জয়নগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং জালিয়াতির নথিপত্রকে আসল বলে চালানোর মতো গুরুতর ধারা। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।