বদলের বাংলায় প্রথম অগ্নিপরীক্ষা! নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে ভোট শুরু হতেই তুঙ্গে উত্তেজনা, বুথে বুথে চরম কড়াকড়ি

রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে এই প্রথম কোনও উপনির্বাচন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। আগামী ৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটফল ঘোষণা করা হবে। ভোটের শুরুতেই দুই কেন্দ্র জুড়ে আঁটসাঁট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন সকাল সকাল স্থানীয় একটি শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের দিনের কাজ শুরু করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোট শুরুর পর তিনি জানান, নন্দীগ্রামে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নেই, সম্পূর্ণ উৎসবের মেজাজেই ভোটগ্রহণ চলছে।তবে এর উলটো ছবিও সামনে এসেছে। সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এজেন্ট বসতে না-দেওয়া এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সোনাচূড়ায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের পাশাপাশি ‘চোর চোর’ ও ‘তৃণমূলের দালাল’ বলেও তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এদিকে, বেলা ১২টা নাগাদ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিরাপত্তা ও প্রোটোকল মেনে কনভয় থেকে নেমে সোজা টোটোয় চড়ে বুথ পর্যন্ত পৌঁছন তিনি। বুথে যাওয়ার পথে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতেও দেখা যায় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর ভোটদানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। দুই কেন্দ্রের এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে চূড়ান্ত সজাগ দৃষ্টি রেখেছে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র নন্দীগ্রামেই ভোট পাহারা দেওয়ার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের প্রায় ৭০০ সশস্ত্র কর্মী। মোট ৩২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টি বুথকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবমিলিয়ে থমথমে ও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রয়েছে উপনির্বাচনের দুই কেন্দ্র।