কম সিবিল স্কোরেও কেল্লাফতে! লোন বা ক্রেডিট কার্ড পেতে মানুন এই ৪ জাদুকরী টিপস, জেনে নিন বিশদে

কম সিবিল স্কোরে কি ব্যাঙ্ক থেকে লোন বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন? সময়মতো ইএমআই না দেওয়া বা ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক একটি সমস্যা। তবে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললেই ফের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পাঠকদের জন্য রইল ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর ও লোন পাওয়ার সহজ কিছু কার্যকরী উপায়।
১. সময়মতো বিল মেটানোর অভ্যাস
আপনার ক্রেডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ক্রেডিট স্কোর নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে লোন পরিশোধের ইতিহাস, ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন এবং নতুন লোনের অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কোর বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো প্রতিটি ইএমআই এবং ক্রেডিট কার্ডের বিল নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মিটিয়ে ফেলা। বিল পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই সেই তথ্য চলে যায় ক্রেডিট ব্যুরোর কাছে, যার ফলে সরাসরি ধাক্কা খায় আপনার সিবিল স্কোর। এই সমস্যা এড়াতে মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করতে পারেন কিংবা ব্যাংকের অটো-ডেবিট অপশন চালু করে রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
২. ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বুঝে খরচ করুন
ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মিনিমাম অ্যামাউন্ট বা সর্বনিম্ন বকেয়া পরিশোধ করে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এতে সাময়িক লেট ফি বাঁচলেও ব্যাংকের তরফে বাকি টাকার ওপর চড়া সুদ চাপানো হয়। তাই যেকোনো মূল্যে ডিউ ডেটের আগে পুরো বিল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি, কার্ডের লিমিটের কত শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন সেটাও অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, আপনার কার্ডের লিমিট ১ লাখ টাকা হলে এবং আপনি ৭০ হাজার টাকা খরচ করলে আপনার ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৭০ শতাংশ। ব্যাংকের চোখে পুরো লিমিট বা তার কাছাকাছি খরচ করা মানে আপনি অতিরিক্ত ধারের ওপর নির্ভরশীল। তাই সবসময় খরচের মাত্রা কার্ডের সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।
৩. পুরনো ধার মিটিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট চেক করুন
আপনার যদি কোনো পুরনো লোন বা ধার বাকি থাকে, তবে সবার আগে তা মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিন। পুরনো ধার পরিশোধ করলেই যে রাতারাতি ক্রেডিট রিপোর্টে পরিবর্তন আসবে তা নয়, তবে তা ঝুলিয়ে রাখলে সুদ ও পেনাল্টির বোঝা কেবল বাড়তেই থাকবে। লোন শোধ করার আগে ব্যাংকের থেকে আসল টাকার সঠিক পরিমাণ জেনে নিন। পেমেন্ট সম্পূর্ণ হওয়ার পর রশিদটি সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কিছুদিন পর ক্রেডিট রিপোর্টে সেই তথ্য সঠিকভাবে আপডেট হলো কি না, তা মিলিয়ে দেখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া, বছরে চারটি ক্রেডিট ব্যুরো থেকে একটি করে ফ্রি ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে। সেখানে কোনো ভুল তথ্য রয়েছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা উচিত।
৪. পুরনো কার্ড ও নতুন লোনে বাড়তি সাবধানতা
এক জায়গায় লোনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাংকে দৌড়াবেন না। স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘন ঘন বিভিন্ন জায়গায় লোনের আবেদন করলে ব্যাংকগুলো আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে ‘হার্ড এনকোয়ারি’ করে, যা ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই লোন চাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে, হুট করে পুরনো কোনো ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করে দেবেন না। পুরনো কার্ড আপনার দীর্ঘদিনের ভালো পেমেন্ট হিস্ট্রিকে প্রমাণ করে। তবে যদি কার্ডটির বার্ষিক ফি অনেক বেশি হয় বা অকারণে খরচের বহর বাড়ে, তবেই তা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।