আজই পালিত হচ্ছে ইন্দিরা একাদশী! ভুল সময়ে উপবাস ভাঙলে পুণ্যপ্রাপ্তি হবে না, রইল পারণের সঠিক সময় ও বিধি

সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির মাহাত্ম্য অপরিসীম। বিশেষ করে পিতৃপক্ষের সময় যে একাদশী তিথি পড়ে, তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে পবিত্র ইন্দিরা একাদশী। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশী তিথিটি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি এবং তাঁদের মোক্ষলাভের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। এই দিনে ভক্তরা ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করার পাশাপাশি উপবাস পালন করে থাকেন এবং পিতৃপুরুষের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা জানান।

ইন্দিরা একাদশী ২০২৬: তারিখ ও সময়সূচি
নতুন দিল্লি পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ইন্দিরা একাদশীর সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো (স্থানীয় ভেদে সময়ের সামান্য পার্থক্য হতে পারে):

তারিখ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ (মঙ্গলবার)

একাদশী তিথি শুরু: ৬ অক্টোবর, ভোর ২:০৭ মিনিট

একাদশী তিথি সমাপ্তি: ৭ অক্টোবর, রাত ১২:৩৪ মিনিট

ব্রতমুক্তির সময় (পারণ): ৭ অক্টোবর, সকাল ৬:১৭ মিনিটের পর

পুজো ও উপবাসের নিয়ম (Puja Vidhi)
ইন্দিরা একাদশী পালনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন:
১. সকালে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিন।
২. পরিষ্কার পোশাক পরে ব্রত পালনের সংকল্প করুন।
৩. পুজোর বেদীতে বা পবিত্র স্থানে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।
৪. প্রদীপ জ্বালিয়ে ফুল, চন্দন এবং তুলসী পাতা নিবেদন করুন।
৫. ভগবানকে ফল বা নিয়মমাফিক ভোগ অর্পণ করুন।
৬. নিষ্ঠাভরে ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করুন।
৭. ইন্দিরা একাদশী ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করুন।
৮. পূজার অন্তে মৃত পিতৃপুরুষদের স্মরণে প্রার্থনা করুন।
৯. দ্বাদশী তিথিতে পারণের সময় নিয়ম মেনে ব্রত ভঙ্গ করুন।

ইন্দিরা একাদশী ব্রতকথা ও তাৎপর্য
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, রাজা ইন্দ্রসেনা ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত ছিলেন। একবার দেবর্ষি নারদ তাঁর সভাসদদের উদ্দেশ্যে জানান যে, রাজার মৃত পিতা পরকালের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তখন নারদ মুনি রাজাকে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের ইন্দিরা একাদশী পালনের পরামর্শ দেন এবং এই ব্রতের পুণ্যফল তাঁর পিতাকে উৎসর্গ করতে বলেন। রাজা ইন্দ্রসেনা যথাযথ নিয়ম মেনে এই ব্রত পালন করেন, যার ফলে তাঁর পিতার মুক্তি ঘটে এবং তিনি উচ্চতর লোক লাভ করেন। এই কাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই মূলত পিতৃপক্ষের সময় এই একাদশী পালনের বিশেষ প্রথা চলে আসছে।

উল্লেখ্য, এটি সাধারণ একাদশী শ্রাদ্ধ থেকে আলাদা। একাদশী শ্রাদ্ধ হলো সেই শ্রাদ্ধ, যা কোনো পূর্বপুরুষের মৃত্যুর তিথি একাদশী হলে পালিত হয়।

এই দিনে কী খাবেন?
যারা এই ব্রত ফল বা নিরামিষ আহারে পালন করেন, তারা দুধ, ফল, মখানা, সাবুদানা, আলু এবং কুಟ್ಟು বা সিংঘড়ার আটার তৈরি খাবার খেতে পারেন। তবে পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। একাদশী তিথিতে ভাত, গম, ডাল এবং অন্যান্য সাধারণ খাদ্য গ্রহণ করা নিষেধ। কেউ কেউ আবার কঠোর নিয়ম মেনে নির্জলা উপবাসও পালন করে থাকেন। ৭ অক্টোবর সকালে নির্দিষ্ট পারণের সময়ের মধ্যে ব্রত সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে এই পবিত্র উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *