মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর অর্ধেক মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হলো! চুল কাটার এই অদ্ভূত শাস্তি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার চিমুর তহসিলের জাম্বুলঘাটে অবস্থিত একটি সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক আবাসিক আশ্রম বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার প্রায় ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর অর্ধেক চুল ট্রিমার দিয়ে কেটে দেওয়া হয় এবং বাকি চুল পরে কেটে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই অর্ধেক মাথা কামানো ও কাটা পড়া ছাত্রছাত্রীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে ঝড়ের গতিতে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই রাতেই তড়িঘড়ি শিশুদের বাকি চুল আবার কেটে দেওয়া হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
জাম্বুলঘাটের ওই আবাসিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫৭২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাফাই, ছাত্রছাত্রীদের মাথা থেকে খুশকি ও চুলকানির সমস্যা দূর করতেই এই চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শনিবার দুপুর ৩টার দিকে চুল কাটা শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ, যে ট্রিমারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, মাঝপথে তার চার্জ শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর চুলের ঠিক অর্ধেক অংশ কেটে দিয়েই নাপিত কাজ বন্ধ করে দেন এবং জানান যে বাকি চুল পরে কেটে দেওয়া হবে।
এদিকে, ওই অর্ধস্বচ্ছ ও অর্ধেক কাটা চুলের ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় স্কুল প্রশাসনের অন্দরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আশ্রম স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট প্রশান্ত মেশরামের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ওপরমহল থেকে অবিলম্বে শিশুদের চুল ঠিক করে দেওয়ার নির্দেশ পান। এরপর গভীর রাতে—অর্থাৎ রাত প্রায় ১১টা থেকে শুরু করে ভোর প্রায় ৪টা পর্যন্ত একটানা ছাত্রছাত্রীদের চুল কাটার অদ্ভূত প্রক্রিয়া চলে। এই সময়ে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন ছাত্রছাত্রীর চুল কাটা হয়। সবচেয়ে অমানবিক ব্যাপার হলো, যখন এই কাণ্ড শুরু হয়, তখন অনেক শিশু ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিংবা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। গভীর রাতে শিশুদের এভাবে ঘুম থেকে ডেকে তুলে চুল কাটার এই নিষ্ঠুর প্রথা নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের সাফাই ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
পুরো ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট প্রশান্ত মেশরাম দাবি করেন যে, বাচ্চাদের চুল প্রতি দুই মাস অন্তর নিয়মিত কাটা হয়। বর্ষাকালে এই বিষয়ে বেশি নজর দেওয়া না গেলেও গ্রীষ্মকালে বাচ্চারা খেলাধুলা করার কারণে ঠিকমতো চুল পরিষ্কার করতে পারে না, যার ফলে খুশকি ও চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাচ্চাদের ছোটাছুটি বা দুষ্টুমি আটকাতে নাকি প্রথমে অর্ধেক চুল কেটে আটকে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ট্রিমারের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপত্তি বাধে।
তবে এই ঘটনা স্কুলের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। কারণ এর আগেও এই একই আশ্রমশালায় ছাত্রছাত্রীদের বাসি খাবার পরিবেশন করা এবং তাদের গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগার মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতনমহল দাবি তুলেছেন যে, আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন অবিলম্বে আশ্রমশালাটি পরিদর্শন করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেন। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগত বক্তব্য আলাদাভাবে রেকর্ড করে এই অমানবিক সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার দাবিও উঠেছে।