পাঞ্জাবে কি ফিরছে পুরনো সমীকরণ? বিজেপি-অকালি দল জোট বাঁধলেই কি মসনদ দখল সময়ের অপেক্ষা?

পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলই নিজেদের শক্তি ঝালিয়ে নিতে এবং সরকার গঠনের পথ সুগম করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে শিরোমণি অকালি দল (SAD)-এর করা একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমীক্ষা বলছে, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সঙ্গে জোট ছাড়া একা লড়লে অকালি দল ও বিজেপি—উভয় দলের পক্ষেই সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

সমীক্ষার রিপোর্ট কী বলছে?
এর আগেও অকালি দল অনুরূপ দুটি সমীক্ষা চালিয়েছিল, যেখান থেকেও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে পাঞ্জাবের মানুষ আলাদাভাবে ভোট লড়াইয়ের চেয়ে জোটকেই বেশি পছন্দ করছেন। সর্বশেষ অভ্যন্তরীণ সমীক্ষ অনুযায়ী, অকালি দল যদি একা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তবে তারা বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫টি আসন পেতে পারে, যা সরকার গড়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে যদি জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করা যায়, তবে সহজেই ৫৮ থেকে ৬০টি আসন ঝুলিতে আসবে, যা ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পুরোপুরি সাহায্য করবে। বিশেষ করে সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শহর ও গ্রামীণ—উভয় অঞ্চলেই বিজেপির জনভিত্তি ও গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।

আসন সমঝোতা ও জোটের ফর্মুলা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজেপি ও অকালি দলের মধ্যে জোট প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক হয়েছে, মোট ১১৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৬০টি আসনে এবং অকালি দল ৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এছাড়া, জোটে ‘শিরোমণি অকালি দল (পুনর সুরজিৎ)’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপি তাদের নিজস্ব কোটা থেকে ৮ থেকে ১০টি আসন এই দলকে ছাড়তে রাজি হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার কোনো নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর মুখ সামনে রেখে নয়, বরং যৌথভাবে ভোট ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দল। প্রচারে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ ব্যবহার করবে এবং অকালি দল লড়বে সুখবীর সিং বাদলের নেতৃত্বে। নির্বাচনের পর জয়ী বিধায়কদের সংখ্যা বিচার করেই পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থান
নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমানে দুই দলই ১১৭টি আসনেই সমানভাবে সক্রিয় থাকার বার্তা দিচ্ছে। সুখবীর বাদল যেমন গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ঘন ঘন জনসভা করছেন, তেমনই বিজেপি কর্মীরা শহরাঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে জোর দিয়েছেন। তবে আগামী দিনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো রকম তাড়াহুড়ো করতে নারাজ দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বই। অকালি দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন মন্ত্রী দলজিৎ সিং চিমা জানিয়েছেন, দলের কোর কমিটি জোট সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দলীয় সভাপতি সুখবীর বাদলকে দিয়েছেন। পাঞ্জাবের সার্বিক স্বার্থ এবং জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েই যে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এক প্রকার স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *