১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে কোটি কোটি টাকার পুরস্কার! ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের ওপর এখন কার কত বর্ষা?

মৃত্যুর মুখ থেকে ১৭৪ জন যাত্রীকে সুকৌশলে উদ্ধার করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ফ্লাইদুবাই ফাইট (FZ1073)-এর সেই ভয়াবহ ও রোমহর্ষক পরিস্থিতি থেকে যাত্রীদের বাঁচানোর স্বীকৃতিস্বরূপ এখন তাঁর ওপর নেমে আসছে একের পর এক সম্মান ও পুরস্কারের জোয়ার। বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রতি কুর্নিশ জানিয়ে একাধিক করপোরেট সংস্থা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। কারা এবং কত অর্থ পুরস্কার দিলেন?স্মিতের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ধৈর্য ও অদম্য সাহসের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলো আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করেছে:ম্যানকাইন্ড ফার্মা (Mankind Pharma): ভারতীয় এই কৃতি পাইলট ও তাঁর পরিবারের বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে এই শীর্ষস্থানীয় ফার্মা কোম্পানি। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে সহকর্মী ও যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে স্মিতের এই দায়িত্ববোধ অতুলনীয়।গুজরাত সরকার: মূলতঃ গুজরাতের কৃতি সন্তান স্মিতকে ঘরের ছেলে হিসেবে সম্মান জানাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা অ্যাওয়ার্ড’ ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এই বিশেষ সম্মাননার কথা প্রকাশ্যে আনেন। সংসদ সদস্যের অনুদান: কেবল রাজ্য সরকারই নয়, রাজ্যসভার সাংসদ তথা ‘সান ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান বিক্রমজিৎ সিং সাহানিও স্মিতের সাহসিকতার পুরস্কারস্বরূপ ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে স্মিতকে দেশের অন্যতম বড় বীরত্বের পুরস্কারে ভূষিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (FIP) সহ বহু জনপ্রতিনিধি ও সংগঠন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে স্মিতকে ‘ন্যাশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড’ বা ‘অশোক চক্র’ দেওয়ার দাবি তুলেছে। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন আকাশে? সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাই (FlyDubai)-এর একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান। বিমানে ক্রু সহ প্রায় ১৭৪-১৮০ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। ফ্লাইটটি যখন আকাশে, তখন ককপিটের ভেতরে সহকারী পাইলট অতর্কিত হামলা চালান। কুঠার বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় এবং বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিচে নামিয়ে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা চলে। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও বিন্দুমাত্র মনোবল হারাননি স্মিত। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ধস্তাধস্তি চালিয়ে যান এবং চরম সংকটের মধ্যেও ককপিটের ডিজিটাল লক খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু ও বিমানে থাকা অন্য যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারীকে কাবু করেন। পরবর্তীতে অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। এই মুহূর্তে চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বীরত্বের জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *