যৌন হেনস্থার বিচার চাইতে গিয়ে নিজেই গ্রেফতার! খোদ মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে এ কী করল দিল্লি পুলিশ?

খোদ এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। অপরাধের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে ন্যায়বিচার চাওয়ার অপরাধে উল্টে তাঁকেই পুলিশের হাতে আটক হতে হলো! শুধু তাই নয়, প্রতিবাদী এক মহিলা নেত্রীকে জোর করে নম্বর প্লেটহীন প্রাইভেট গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লি।

ঠিক কী ঘটেছিল সংসদ ভবন থানার বাইরে?
ঘটনার সূত্রপাত এসিপি বিবেক ভগবতের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিচার চেয়ে ওই মহিলা সাংবাদিক সংসদ ভবন থানা এলাকার সামনে অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বসেছিলেন। তাঁদের সাফ দাবি ছিল, অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টে বিক্ষোভরত ওই সাংবাদিক এবং তাঁর পাশে থাকা বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে জোরপূর্বক আটক করে। তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, সেই খোদ অভিযোগকারিণীকে পুলিশের হেফাজতে যেতে হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

আইসা ও সিজেপি-র তীব্র নিন্দা, নেহা বোরাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (AISA)। সংগঠনের স্পষ্ট অভিযোগ, নিজেদের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে আড়াল করতেই পুলিশ অভিযোগকারী সাংবাদিককে হেনস্থা করছে এবং আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আটক সাংবাদিক ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে ময়দানে নেমেছে আইনজীবীদের একটি বিশেষ দল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও পুলিশের এই একরোখা আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছে।

এর মধ্যেই দিল্লিতে আরও এক রোমহর্ষক ও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকে একটি নম্বর প্লেটহীন সাধারণ বা প্রাইভেট গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁর কাছে কোনো ফোন বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল না এবং গাড়িটিতে কোনো নারী পুলিশ কর্মীও উপস্থিত ছিলেন না।

আপ-এর বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
অন্যদিকে, একই দিনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভ দেখায় আম আদমি পার্টি (AAP)। সেখান থেকেও দিল্লি আপ-এর রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এবং কুলদীপ কুমার সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

একই দিনে সাংবাদিকের ওপর পুলিশি আক্রমণ, অভিযোগকারিণীকে আটক, মহিলা নেত্রীকে নম্বর প্লেটহীন গাড়িতে তুলে নেওয়া এবং রাজনৈতিক বিক্ষোভে দমনপীড়নের মতো পরপর একাধিক ঘটনায় দিল্লির পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যৌন হেনস্থার বিচার চাইতে যাওয়া এক মহিলাকে হেনস্থা করার এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নটিকে আবারও বড়সড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *