২০২৬ সালের মহালয়া কবে? জেনে নিন শরতের ভোরে চণ্ডীপাঠ ও ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচারের সঠিক সময় ও দিনক্ষণ

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক বোধন ঘটিয়ে দেয় যে শুভ লগ্ন, তা হল মহালয়া। শরতের সোনাঝরা সকালে আকাশবাণী থেকে ভেসে আসা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জাদুকরী ও ভক্তিপূত কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ, আর “বাজলো তোমার আলোর বেণু” সুরের মূর্চ্ছনা— প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে সৃষ্টি করে এক অদ্ভুত শিহরণ। ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে মহালয়া ঠিক কোন দিনে পড়ছে এবং কখন রেডিওতে শুরু হবে মহিষাসুরমর্দিনী, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।

২০২৬ সালের মহালয়া কবে পালিত হবে?
পঞ্জিকা ও তারিখ সংক্রান্ত সমস্ত সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে জানা যাচ্ছে যে, ২০২৬ সালে মহালয়া পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার (বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)। এই বিশেষ দিনটিতেই অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং শুভ দেবীপক্ষের আনন্দময় সূচনা হয়। অর্থাৎ শনিবারের মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে যাবে বাঙালির বহুল প্রতীক্ষিত শারদোৎসবের দিন গোনা।

কখন শুনবেন মহালয়ার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’?
ঐতিহ্যবাহী ধারা বজায় রেখে চলতি বছরেও মহালয়ার দিন ভোরবেলায় প্রথা মেনে আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হবে ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।

সম্প্রচারের সময়: ১০ অক্টোবর, শনিবার ভোর ৪টে থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই অবিস্মরণীয় চণ্ডীপাঠ, পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুরে কালজয়ী আগমনী গান এবং বাণীকুমারের রচনা— রেডিওর সেই চিরাচরিত নস্ট্যালজিয়াতেই শনিবার ভোরের আলো ফুটবে প্রতিটি ঘরে ঘরে।

মহালয়ার তাৎপর্য ও তর্পণ
‘মহালয়া’ শব্দটির গূঢ় অর্থ হল ‘মহান আলয়’ বা পরম আশ্রয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূণ্য তিথিতেই মর্ত্যলোকের উদ্দেশ্যে কৈলাস পর্বত ত্যাগ করেন দেবী দুর্গা। ফলে মহালয়া মানেই ধরাতলে জগতজননীর আগমন বার্তা।

একই সঙ্গে এদিন পিতৃপক্ষের শেষ দিন বা সর্বপিত্রী অমাবস্যা। ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, সকালে গঙ্গাতীরে বা যে কোনও নদী-জলাশয়ে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ সারেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তর্পণ শেষে দেবাধিদেব ও মা দুর্গার আবাহনের মাধ্যমেই উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে গোটা বাঙালি সমাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *