আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘হলুদ সতর্কতা’! ডেঙ্গির জোড়া ফলায় কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বিপদ?

পুজোর প্রাক্কালে ও শীতের দোরগোড়ায় ফের একবার চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গি। রাজ্যের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘হলুদ সতর্কতা’ বা ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন। ডেঙ্গির সংক্রমণ রুখতে এবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জঞ্জাল সাফাই এবং কড়া নজরদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সে বিষয়েও জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আক্রান্তের পরিসংখ্যান ও কোন জেলায় প্রকোপ বেশি?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে প্রায় ৯,৬০০-এর ঘরে। তুলনামূলকভাবে গত বছর এই একই সময়ে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩,০০০।

চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়, যেখানে মোট ১,৬৩২ জন রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খাস কলকাতা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০৮। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনায় ৬৩৭ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫৮৫ জন, নদিয়ায় ৫৮৩ জন এবং হুগলিতে ৫০২ জন ডেঙ্গি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদিকে গত তিন দিনের মধ্যে রাজ্যে দু’জন ডেঙ্গি রোগীর মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে, যাঁদের উভয়েই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা।

ডেঙ্গির কোন প্রজাতিগুলি সবচেয়ে মারাত্মক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে ডেঙ্গির সেরোটাইপ ২ এবং সেরোটাইপ ৩ প্রজাতির দাপট বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালি পরিবর্তনই এই প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ডেঙ্গির মোট চারটি প্রজাতি রয়েছে— ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। এর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়টিতে আক্রান্ত হলে শারীরিক সংকট তুলনামূলক কম থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় ও চতুর্থ প্রজাতি অত্যন্ত মারাত্মক ও বিপজ্জনক। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি কিছু রোগীর শরীরে একই সঙ্গে একাধিক প্রজাতির ডেঙ্গি ভাইরাসের সংক্রমণও চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশে বা টবে জমা জল যদি পাঁচ থেকে সাত দিনের বেশি জমে থাকে, তবে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয় এবং খুব দ্রুত মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। ডেঙ্গির সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নিলে রোগীর রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিডনির সমস্যা, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এমনকি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *