হোটেল-দোকানে হাজার কিলো পচা মাংস বাজেয়াপ্ত! পুজো আসতেই কড়া অ্যাকশনে কলকাতা পুরসভা, জানুন বিস্তারিত

দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব আর চটজলদি মুখরোচক খাবার খাওয়া। কিন্তু উৎসবের এই আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিষাদে না বদলায়, সেজন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। পুজোর মুখে শহরের লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলিতে আকস্মিক ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুর-প্রশাসন। শুধু তৈরি খাবারই নয়, রান্নার মশলা থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের গুণমানও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হাজার কেজি পচা মাংস বাজেয়াপ্ত
উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে এর আগেও শহরের বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্ট এবং নামী-দামি রেস্তোরাঁয় হানা দিয়েছিল পুরসভার টিম। সেই অভিযানে প্রায় ১০০০ কেজি পচা ও বাসি মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বহু হোটেল ও খাবারের দোকানের নমুনা নির্ধারিত গুণমান পরীক্ষায় ‘ফেল’ করায় সেগুলি সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এমনকি স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করায় একাধিক ব্যবসায়ীকে সাময়িকভাবে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। পরবর্তীতে গুরুতর ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করার শর্তেই তাদের ব্যবসা পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ল্যাব পরীক্ষায় একের পর এক গলদ
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক অভিযানে সংগৃহীত দেড়শোর বেশি খাবার ও উপকরণের নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করার পর তাতে মারাত্মক সব গলদ ধরা পড়েছে। যে সমস্ত দোকান ও রেস্তোরাঁ এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে পুরসভার এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, পুজোর মুখের এই বিশেষ স্বাস্থ্য অভিযান নতুন কিছু নয়, প্রতি বছরই উৎসবের আগে এই পদক্ষেপ করা হয়। তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এবার বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বড় আকারে অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। পুজোয় বাইরে খাওয়ার আগে বা রেস্তোরাঁয় যাওয়ার আগে এই কড়া পদক্ষেপ যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *