রেপো রেট বৃদ্ধি নিয়ে বড়সড় জল্পনা! RBI-এর তিন দিনের মেগা বৈঠকে কি তবে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে আপনার পকেট?

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ, ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) মনিটারি পলিসি কমিটির (MPC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। টানা তিন দিন ধরে এই বৈঠক চলার পর আগামী বুধবার, ৭ অক্টোবর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। তবে এবারের বৈঠকে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের নজর সবচেয়ে বেশি আটকে রয়েছে ‘রেপো রেট’ (Repo Rate)-এর সিদ্ধান্তের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে এই সুদের হারে কোনো পরিবর্তন না হলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং দেশীয় মুদ্রাস্ফীতির জেরে সুদের হার বৃদ্ধির জল্পনা এখন তুঙ্গে।

কেন বাড়ছে রেপো রেট বাড়ানোর জল্পনা?
২০২৫ সালে আরবিআই পরপর চারবার রেপো রেট কমিয়ে মোট ১.২৫ শতাংশ হ্রাস করেছিল, যার জেরে রেপো রেট ৬.৫০ শতাংশ থেকে নেমে এসে দাঁড়িয়েছিল ৫.২৫ শতাংশে। কিন্তু চলতি ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি এমপিসি (MPC) বৈঠকেই রেপো রেটে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

তবে রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন যে এবার ০.২৫ শতাংশ রেপো রেট বৃদ্ধি করা হতে পারে। এমনটা ঘটলে সুদের হার বেড়ে ৫.৫০ শতাংশে পৌঁছবে। নামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স (Goldman Sachs)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে মোট ১ শতাংশ পর্যন্ত রেপো রেট বাড়তে পারে।

এসবিআই রিসার্চ (SBI Research)-এর রিপোর্টও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, লাগাতার বাড়তে থাকা মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্যের ঘাটতি এবং বিশ্ব বাজারের অবনতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আরবিআই-এর উচিত আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা। এছাড়া জাপানি ব্রোকারেজ সংস্থা নোমুরা (Nomura)-র অনুমান, অক্টোবর ও ডিসেম্বর—উভয় বৈঠকেই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে বাড়িয়ে ৫.৭৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

সাধারণ মানুষের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে?
বাড়বে লোনের কিস্তি (EMI): রেপো রেট বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঋণের সুদের হারের ওপর। আরবিআই থেকে কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলির টাকা ধার করা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ালে ব্যাংকগুলি সেই অতিরিক্ত বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপাতে বাধ্য হয়। এর ফলে হোম লোন, কার লোন এবং পার্সোনাল লোনের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার জেরে বাড়বে মাসিক ইএমআই-এর (EMI) চাপ।

এফডি-তে মিলবে বেশি রিটার্ন: ঋণের বোঝা বাড়লেও এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। আমানত বা সেভিংস আকর্ষণ করার জন্য ব্যাংকগুলি ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-র (FD) সুদের হার বাড়াতে পারে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরবিআই এই মেগা বৈঠকে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের আর্থিক মহল ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *