“আমাদের গ্রেফতার করলে বড় ভুল করবে!” কেন্দ্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি CJP-র, ১০ অক্টোবর মেগা আন্দোলনের ডাক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের একবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিরাট বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। তবে এই আন্দোলনের ঠিক প্রাক্কালেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ সিজেপি নেতৃত্ব।
গ্রেফতারির আশঙ্কা ও সরকারের বিরুদ্ধে তোপ
রবিবার রাতে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, তাঁকে ছাড়াও দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং রত্না সিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেফতার করার ছক কষছে সরকার। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, এই ধরনের ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ করে কোনোভাবেই এই আন্দোলনকে থামিয়ে রাখা যাবে না। তাঁরা যে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। দেশের যুব সমাজকে নিজেদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই আন্দোলনে দলে দলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “কতজনকে গ্রেফতার করবেন?” আগামী ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের ডাক দিয়েছেন তিনি।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর বিতর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে গোড়া থেকেই সরব রয়েছে সিজেপি। তাদের জোরালো অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবি নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছে তারা। এর আগে গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কেও সিজেপি-র নেতৃত্বে বড়সড় বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল।
অতীতেও আটকের নজির
সংগঠনের দাবি, গত মাসেই অসমে একটি আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবক বৈঠকের প্রাক্কালে দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সহ বেশ কয়েকজনকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল। এমনকি অতীতে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদেও যন্তর মন্তরে বড় আন্দোলন করেছিল সিজেপি, যার জেরে দীর্ঘ ৩৬ দিনের প্রতিবাদের মুখে পড়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে দাবি দলটির।
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভে আম আদমি পার্টি (AAP), বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি জানিয়েছেন। গত রবিবারের বিক্ষোভে পুলিশ সূত্রে প্রায় ১১০ জনকে আটকের খবর মিলেছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মেগা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই রাজধানী জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।