‘ইহুদি-ইউএই বিমান’ উড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত! ফ্লাইদুবাই হাইজ্যাকের ব্যর্থ চেষ্টা নিয়ে মুখ খুলল আল-কায়েদা!

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমানে সাম্প্রতিক হাইজ্যাকের ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে চাঞ্চল্য অব্যাহত রয়েছে। এবার এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উসকে দিয়ে মুখ খুলল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখা বা AQAP (Al-Qaeda in the Arabian Peninsula)। সংগঠনের অনানুষ্ঠানিক মুখপত্র ‘আল বায়ান’-এ এই বিমান ছিনতাইয়ের ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে একটি দীর্ঘ সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার করা থেকে বিরত থেকেছে তারা, তবে ওমানি সহ-পাইলটের এই কথিত প্রচেষ্টার প্রতি প্রকাশ্যেই আদর্শগত সমর্থন জানিয়েছে ওই জঙ্গি গোষ্ঠী।

সম্পাদকীয়ের বিস্ফোরক দাবি ও প্রোপাগান্ডা
প্রকাশিত ওই নিবন্ধটিতে ৯/১১-এর জোড়া টাওয়ার হামলার বিমান এবং সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাই বিমানটির ছবি পাশাপাশি রেখে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। মুখপত্রটিতে ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-কে একটি “ইহুদি-ইউএই বিমান” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। আল বায়ানের মতে, এই বিমান ছিনতাইয়ের চক্রান্ত যদি সফল হতো, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারত। এমনকি অমুসলিমরাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং এই ধরনের নাশকতা মুসলমানদের জন্য ‘উপকারী’ হবে— এমন অদ্ভুত তত্ত্বও তুলে ধরা হয়েছে ওই নিবন্ধে। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

কে এই ওমানি কো-পাইলট হুমাম আল-হামামি?
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলা চালানো ওই ওমানি সহ-পাইলটের নাম হুমাম আল-হামামি এবং তাঁর বয়স ২৯ বছর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্ম নেওয়া আল-হামামির বাবা ওমানি এবং মা সিরীয় নাগরিক। যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করা আল-হামামি অতীতে ওমান এয়ার এবং রয়্যাল এয়ার মারোক-এর মতো সংস্থাতেও কাজ করেছিলেন।

তবে সূত্রের খবর, তাঁর উগ্রপন্থী মানসিকতা এবং গভীর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই তাঁকে ওমান এয়ারের প্রশিক্ষণ পর্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সমস্ত তথ্য গোপন করে প্রায় আট মাস আগে তিনি ফ্লাইদুবাই সংস্থায় কো-পাইলট হিসেবে যোগ দেন।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে?
গত ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি। প্রায় ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে মাঝ আকাশে যখন বিমানটি উড়ছিল, ঠিক তখনই ঘটে মারাত্মক বিপত্তি। ককপিটের ভেতরেই সহ-পাইলট হুমাম আল-হামামি অতর্কিত আক্রমণ চালান ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচারকে।

উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি ছিনতাই করা বা বড়সড় কোনো নাশকতার মাধ্যমে তা বিধ্বস্ত করা। এই আকস্মিক হামলায় বিমানটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সোজা ১৭,০০০ ফুটে নেমে আসে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচার। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। দরজা খুলতেই ফ্লাইট ক্রু এবং বিমানে থাকা ইসরায়েলি যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন এবং যৌথভাবে ওই আক্রমণকারী কো-পাইলটকে ধরে ফেলে বেঁধে ফেলেন। এরপর রিজার্ভ পাইলটরা বিমানটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান।

এই চরম দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী অক্ষত প্রাণে বেঁচে যান। ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচারের এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জেরে বিশ্বজুড়ে তিনি প্রশংসায় ভেসেছেন। খোদ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু থেকে শুরু করে বিশ্বনেতারা ক্যাপ্টেন স্মিতকে একবাক্যে ‘সত্য়িকারের নায়ক’ হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *