মৃত ভেবে দাহ করা হলো বৃদ্ধকে! পরের দিন সশরীরে বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়াতেই যা হলো— জানলে শিউরে উঠবেন!

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি থেকে এমন এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনলে যেকোনো মানুষের চোখ কপালে উঠবে। যে বৃদ্ধকে মৃত ভেবে পরিবারের সদস্যরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, ময়নাতদন্ত সেরে নিয়ম মেনে যাঁর শেষকৃত্য ও দাহকার্যও সম্পন্ন করা হয়েছিল— ঠিক তার পরের দিন সকালে তিনি সশরীরে এসে হাজির নিজ বাড়ির দরজায়! মৃত মানুষ জ্যান্ত হয়ে ফিরে আসায় আনন্দের বদলে প্রথমে ভীতি ও চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবারে। আর এই অদ্ভুত ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এল এক অভাবনীয় পরিচয় বিভ্রাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঠিক কী ঘটেছিল বেরেলিতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেরেলির নিউ মডার্ন রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা মনশালাল গত শুক্রবার পিলিভিটে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এর কিছু সময় পর শহীদ গেট রেল ক্রসিংয়ের কাছে একটি মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মনশালালের ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মৃতদেহের মুখ ও অবয়ব দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন যে ওই মৃত ব্যক্তি আর কেউ নন, স্বয়ং মনশালালই! শোকস্তব্ধ পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃতদেহ দাহ করা হয়। আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীরাও সমবেদনা জানাতে দলে দলে ভিড় জমান শোকাহত বাড়িতে।

কিন্তু আসল টুইস্ট এল ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ শনিবার সকালে। শোকের ছায়া কাটিয়ে ওঠার আগেই বাড়ির দরজায় যাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল, তিনি আর কেউ নন— খোদ মনশালাল!

জ্যান্ত মনশালালকে দেখে হতবাক পরিবার
হঠাৎ মৃত ব্যক্তিকে সামনে দেখে পরিবারের সদস্যদের গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। তাঁরা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না যে তবে শুক্রবার কার দেহ দাহ করা হলো? জীবিত মনশালালকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যারিয়ার-১ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এরপরই পুলিশ ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য সত্য।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিফেন্স কলোনির বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে লোকো পাইলট চন্দ্রিকা সিং (৭২) গত শুক্রবার সকালেই প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর পরিবারও তখন নিখোঁজ বৃদ্ধের খোঁজে থানায় ছোটাছুটি করছিল। চন্দ্রিকা সিংয়ের ছেলে অলোক যাদব থানায় গিয়ে তাঁর বাবার নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেন এবং নিখোঁজ বাবার পরনের পোশাক ও চেহারার বর্ণনা দেন।

কোথায় হলো ভুল?
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মনশালাল এবং নিখোঁজ হওয়া চন্দ্রিকা সিং— উভয়েরই বয়স ছিল প্রায় ৭২ বছর এবং তাঁদের শারীরিক গঠনে ও চেহারায় এক অদ্ভুত ও লক্ষণীয় মিল ছিল। এই সাদৃশ্যের কারণেই মনশালালের পরিবার ভুলবশত রেল দুর্ঘটনায় নিহত ওই অচেনা বৃদ্ধের দেহটিকে তাঁদের বাড়ির মানুষ বলে ভুল করে শনাক্ত করেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মনশালাল ও চন্দ্রিকা সিং— উভয়ের পরিবারই পাশাপাশি কলোনিতে বসবাস করেন এবং তাঁদের বাড়ির দূরত্বও খুবই কম।

ইজ্জতনগর থানার পরিদর্শক সুরেশ চন্দ্র গৌতম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে শুক্রবারের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুর্ভাগ্যজনক ব্যক্তিটি মনশালাল নন, বরং তিনি হলেন অবসরপ্রাপ্ত লোকো পাইলট চন্দ্রিকা সিং। ভুল ব্যক্তির সৎকার হয়ে যাওয়ার এই অদ্ভুত ও মর্মান্তিক ঘটনায় এখন গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আলোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *