শারদীয় নবরাত্রি ২০২৬ কবে শুরু? মায়ের চৌকি স্থাপনের সঠিক দিক ও কোন ভুলগুলি ভুলেও করবেন না— জানুন বিশদে!

হিন্দু সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত একটি উৎসব হলো শারদীয় নবরাত্রি। এই নয়টি দিন দেবী দুর্গার নয়টি আলাদা রূপের আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। ঘরে ঘরে দেবীর আবাহন, কলস স্থাপন, অখণ্ড জ্যোতি প্রজ্জ্বলন এবং ভক্তিভরে মায়ের চৌকি সাজানোর মাধ্যমে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সঠিক নিয়ম মেনে ঘরে মায়ের চৌকি বা বেদী স্থাপন করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আগমন ঘটে। ২০২৬ সালের শারদীয় নবরাত্রি নিয়ে ভক্তদের মনে উৎসাহের অন্ত নেই।
নবরাত্রি ২০২৬: দিনক্ষণ ও তিথি
আসন্ন ২০২৬ সালে শারদীয় নবরাত্রি শুরু হতে চলেছে আগামী রবিবার, ১১ই অক্টোবর থেকে। টানা নয় দিন ধরে মহাশক্তি দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের পূজা-অর্চনা চলবে। এরপর টানা ৯ দিন উদযাপনের পর আগামী মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর বিজয়াদশমী বা দশেরার পবিত্র উদযাপনের মাধ্যমে এই মহামান্বিত উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মায়ের চৌকি স্থাপনের সঠিক দিক ও বাস্তু নিয়ম
ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বাস্তুশাস্ত্রের প্রখ্যাত অভিমত অনুযায়ী, ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণ (ঈশান কোণ) মাতার চৌকি বা পূজাস্থল স্থাপনের জন্য সবচেয়ে শুভ ও পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো কারণে যদি উত্তর-পূর্ব কোণে পূজার আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে উত্তর বা পূর্ব দিকেও পূজার স্থান তৈরি করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চৌকিটি এমন স্থানে স্থাপন করা উচিত যাতে পূজা করার সময় ভক্তের মুখ সর্বদা পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকে। পাশাপাশি, পূজার স্থানটি যেন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশের হয়।
মায়ের চৌকি সাজানোর সময় কোন ভুলগুলি করবেন না?
নবরাত্রির পবিত্র দিনে মায়ের আরাধনা করার সময় অজান্তেই কিছু মারাত্মক ভুল হয়ে যেতে পারে, যেগুলি এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি:
নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন স্থান: পূজাস্থল বা তার আশেপাশে কখনোই জুতো, চপ্পল, জঞ্জাল বা অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে রাখা উচিত নয়। স্থানটি সর্বদা পবিত্র রাখা বাঞ্ছনীয়।
ভাঙা মূর্তি বা সামগ্রী বর্জন: মাতৃমূর্তিতে কখনো কোনো ভাঙা মূর্তি, ফেটে যাওয়া ফ্রেম, ছেঁড়া ছবি বা ক্ষতিগ্রস্ত পূজার সামগ্রী রাখা যাবে না। সবসময় সম্পূর্ণ ও অক্ষত সামগ্রী ব্যবহার করা উচিত।
অসতর্কভাবে প্রদীপ বা অখণ্ড জ্যোতি রাখা: নবরাত্রির সময় যে অখণ্ড জ্যোতি বা প্রদীপ প্রজ্বলিত করা হয়, তা অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে রাখা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে যেন তার আশপাশে কোনো দাহ্য পদার্থ বা সহজে আগুন ধরতে পারে এমন বস্তু না থাকে।
চলাচলের পথে চৌকি নয়: মাতৃদেবীর মন্দির বা চৌকি এমন কোনো জায়গায় স্থাপন করা উচিত নয় যেখানে মানুষের ঘন ঘন যাতায়াত বা ভিড় হয়। এতে পূজার পবিত্রতা ও মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
বাসি বা শুকনো ফুল সরিয়ে ফেলুন: দেবী দুর্গার পূজায় সবসময় তাজা ও সুগন্ধী ফুল ব্যবহার করা অত্যন্ত শুভ। পূজাস্থলে কোনোভাবেই পুরনো বা শুকিয়ে যাওয়া বাসি ফুল জমিয়ে রাখা যাবে না।
সঠিক নিয়ম এবং ভক্তিভরে মা দুর্গার আরাধনা করলে তবেই পূজার পুণ্য ফল লাভ করা সম্ভব, এমনটাই মনে করেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।