মোরাদাবাদে ত্রাসের রাজত্ব! খাঁচাবন্দি ২৪তম চিতাবাঘ, বন বিভাগের মেগা অপারেশনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল গ্রামবাসী!

গত বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলাজুড়ে যে চিতাবাঘের ভয়ঙ্কর ত্রাস ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল, তা এখন বন বিভাগের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ও সফল বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযানে পরিণত হয়েছে। বন বিভাগের কড়া নজরদারি ও অপারেশন টিমের তৎপরতায় কান্থ তহসিল এলাকার সামাদগড় (যা সিকান্দারাবাদ নামেও পরিচিত) গ্রাম থেকে আরও একটি বিশালাকার চিতাবাঘকে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই এলাকা থেকে মোট ২৪টি চিতাবাঘকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হলো। সামাদগড়ে চিতাবাঘ আটকের খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে কৌতূহলী ও আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের বিশাল ভিড় জমে যায়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই এই একই গ্রামের একটি নলকূপের ছাদে একসঙ্গে তিনটি চিতাবাঘকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল, যা গোটা অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তবে বন বিভাগের নিরলস সতর্কতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জেরে অবশেষে সেই তিনটি চিতাবাঘকেই একে একে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

২৪টি চিতাবাঘ উদ্ধার, মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতে প্রাণহানি
মোরাদাবাদ জেলায় লাগাতার বাড়তে থাকা চিতাবাঘের উপদ্রব ও সংকট মেটাতে গত ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে একটি বিশেষ মেগা অভিযান শুরু করেছিল বন বিভাগ। সেই অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৪টি চিতাবাঘকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঠাকুরদ্বার তহসিল থেকেই ১৬টি এবং কান্থ তহসিল থেকে ৮টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে।

তবে এই বন্যপ্রাণী সংকটের তীব্রতা ও ভয়বহতা কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে হতাহতের পরিসংখ্যান দেখলেই। জেলাটিতে এ পর্যন্ত চিতাবাঘের নৃশংস আক্রমণে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন— যার মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ১ জন পুরুষ রয়েছেন। পাশাপাশি, গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ডজন ডজন মানুষ। শুধু তাই নয়, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে এবং দ্রুতগামী যানবাহনের বেপরোয়া ধাক্কায় রাস্তায় পিষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩টি চিতাবাঘেরও। ১০০ টাকা সংক্রান্ত পুরোনো বিবাদের জেরে সম্প্রতি অন্য একটি আদালতে বড় সাজার খবরের মাঝেই এই বন্যপ্রাণী সংকট মোরাদাবাদের সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে জর্জরিত করে তুলেছে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার আর গতানুগতিক উপায়ে ভরসা রাখছে না বন বিভাগ, বরং ব্যবহার করা হচ্ছে একশো শতাংশ অত্যাধুনিক কৌশল। জেলার সমস্ত সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে মোট ৪৬টি বড় আকারের খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চিতাবাঘের সঠিক অবস্থান, গতিবিধি এবং তাদের ক্ষুরধার আচরণ ২৪ ঘণ্টা ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হাই-টেক ড্রোন ক্যামেরা এবং নাইট-ভিশন ক্যামেরা ট্র্যাপ।

সাময়িক স্বস্তি মিললেও আতঙ্ক কাটেনি
সামাদগড়ে ২৪তম চিতাবাঘটি ধরা পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, পুরো সংকট এখনও কেটে যায়নি বলেই মনে করছেন তাঁরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যখনই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় চিতাবাঘ ধরা পড়ে, ঠিক তার পাশের গ্রামগুলির দিকে বন্যপ্রাণীদের চলাচলের নতুন নতুন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হতে শুরু করে। এর ফলে মানুষের মনে আতঙ্ক নতুন করে দানা বাঁধছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি, বন বিভাগ যেন সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে তাদের টহলদারি ও তল্লাশি অভিযান একইভাবে অব্যাহত রাখে, যাতে বাকি থাকা সমস্ত চিতাবাঘগুলোকে দ্রুত নিরাপদে খাঁচাবন্দি করা সম্ভব হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *