১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফুঁসছে গোমতী! লখনউয়ের বিশাল এলাকা জলের তলায়, গৃহহীন লক্ষাধিক মানুষ!

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে ফের প্রলয়ঙ্করী রূপ ধারণ করেছে গোমতী নদী। নদীর জলের তোড়ে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে গোটা ফয়জুল্লাহগঞ্জ এলাকা। গত ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম এত ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ল এই অঞ্চল, যা পুরো এলাকাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত করেছে। আকস্মিক এই বন্যায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ ও এক নিরীহ কিশোরী। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
জলের নিচে ৪০ হাজার বাড়ি, খাদ্যের জন্য হাহাকার
বন্যা-আক্রান্ত ফয়জুল্লাহগঞ্জের বাসিন্দাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব। নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়তে থাকায় এলাকার প্রায় ৪০, হাজারেরও বেশি বাড়িতে কোমরজল থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত জল ঢুকে পড়েছে। এর ফলে মিলিত নগর, জৈন মন্দির, রাম বিহার, গণেশ বিহার, ললিত নগর এবং কৈলাস বিহারের মতো জনবহুল এলাকাগুলো এখন সম্পূর্ণ জলমগ্ন। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা জলের মধ্যেই মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানীয় জল বা খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে সর্বত্র। জলমগ্ন এই জনপদে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন কাঠের নৌকা।
কেন প্রতি বছর জলের নিচে চলে যায় ফয়জুল্লাহগঞ্জ?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, নবাব আমলে ফয়জুল্লাহ নামক এক ব্যক্তির হাত ধরে এই অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিল, যা বর্তমানে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে ২০০০-এর দশক থেকে। অভিযোগ রয়েছে, গোমতী নদীর সংলগ্ন প্লাবনভূমি বা ফ্লাডপ্লেন এলাকা দখল করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই কলোনি গড়ে তোলা হয়েছে। আর সেই কারণেই প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে বা নদীর জলস্তর একটু বাড়লেই প্লাবিত হয়ে পড়ে এই পুরো অঞ্চল। এর আগে ২০০৮ সালেও প্রবল বর্ষায় গোমতী নদীর উপচে ওঠা জলে একই ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে মেডিকেল ক্যাম্প এবং উদ্ধার কাজের জন্য প্রায় ২৪ থেকে ৩৫টি দল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় উদ্ধারকারী নৌকা বা ত্রাণের পরিমাণ অত্যন্ত অপ্রতুল। উল্টে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু মাঝি এই বিপদের সুযোগ নিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া বা চাঁদাবাজি করছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর গোমতী নদীর এমন হিংস্র রূপ লখনউয়ের মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে ত্রাণের কাজ দ্রুত গতিতে চালানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও জনজীবন স্বাভাবিক হতে এখনও অনেকটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।