জামতাড়াকেও ছাড়িয়ে গেল বাংলা? আসানসোল-দুর্গাপুরে গড়ে উঠছে সাইবার অপরাধের ভয়ঙ্কর নিরাপদ আস্তানা!

ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাংয়ের অপরাধের ছায়া এবার জেঁকে বসেছে বাংলার শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও দুর্গাপুরে। গত কয়েক দিনে পুলিশের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রীতিমতো ঘুম উড়েছে তদন্তকারীদের। অপরাধের নতুন নিরাপদ আখড়া হিসেবে এই এলাকাগুলো বেছে নিচ্ছে আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুলটি ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাইবার প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়েছিল। আসানসোলের কুলটির একটি বিশেষ এলাকায় খোঁজ মিলেছে এমন সব বাড়ির, যেগুলির ভেতরে তৈরি করা হয়েছিল গোপন কুঠুরি এবং পুলিশি হানা এড়ানোর জন্য বিশেষ পলায়ন পথ বা দরজা। পুরো পাড়ায় বসানো হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে বাইরে থেকে কারা আসছে তার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা যায়। সাধারণ চেহারার এসব বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাপটপ, একাধিক মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড এবং প্রচুর নগদ টাকা।

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ঝাড়খণ্ডের দেওঘর ও মধুপুর এলাকার মতো সংবেদনশীল জোন থেকে যুবকরা এসে আসানসোল ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন হোটেল বা লজে দীর্ঘক্ষণ না থেকে বারবার ডেরা বদল করে এই অপরাধ চালাচ্ছিল। লজ বা সাধারণ বাড়ির ভেতরে বসে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ও এটিএম হ্যাক করে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। অথচ যাদের বাড়ি বা আস্তানা থেকে এই গ্যাজেটগুলি উদ্ধার হয়েছে, তাদের অনেকেরই কম্পিউটার চালানোর প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড বা উচ্চশিক্ষা নেই, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত এই সাইবার অপরাধের শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হচ্ছে, ততদিন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগের এই অভিযান লাগাতার চলবে। সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে গড়ে ওঠা এই মিনি জামতাড়া চক্রের আসল মাথাদের নাগাল পেতে এখন ধৃতদের জেরা করে আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *