তুরস্কের নাগরিক সেজেও শেষরক্ষা হলো না! ভারতের জালে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের কুখ্যাত ‘কিংপিন’ নভপ্রীত

আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী ও কুখ্যাত নারকো-কিংপিন নভপ্রীত সিংকে তুরস্ক থেকে সফলভাবে ভারতে প্রত্যর্পণ করে নিয়ে আসা হয়েছে। মাদক পাচার এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক মামলায় এবার ভারতের মাটিতে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (৩ অক্টোবর) একটি এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেল পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে পুরো ঘটনাটিকে মোদী সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশ থেকে সমস্ত নार्কো-কার্টেল সমূলে নির্মূল করার জোরালো প্রতিজ্ঞাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভুয়ো পরিচয় ও তুরস্কের নাগরিকত্ব
ভারতীয় গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে নভপ্রীত সিং এক অভিনব ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। সে ‘নবাব ভির্ক’ (Navab Virk) নামে একটি সম্পূর্ণ জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে এবং সেই ভুয়া পরিচয়েই তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তুরস্কে নিরাপদে অবস্থান করেও সে আফগানিস্তান থেকে ভারতজুড়ে হেরোইন (Heroine) এবং মেথঅ্যামফিটামিন (Methamphetamine)-এর মতো প্রাণঘাতী মাদকের আন্তর্জাতিক পাচারচক্রটি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করত।

ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নভপ্রীতের আসল পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর তুর্কি প্রশাসনের সাথে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এই মেগা সফলতার জন্য সমস্ত তদন্তকারী সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অমিত শাহ।

কে এই নভপ্রীত সিং?
‘নভ’ নামেও পরিচিত এই কুখ্যাত অপরাধী ভারত, আফগানিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে চলা একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের মূল মাথা হিসেবে কাজ করত। ২০২১ সালে দক্ষিণ দিল্লি থেকে রিজওয়ান কাশ্মীরিকে গ্রেফতারের পর এই চাঞ্চল্যকর তদন্তের সূত্রপাত হয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের একাধিক গোপন তথ্য হাতে পান তদন্তকারীরা। পরবর্তীতে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়—যার মধ্যে একটি গাড়ি থেকে ১৬৬ কেজি এবং অন্য একটি গাড়ি থেকে ১১৫ কেজি হেরোইন বাজেটাপ্ত করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, নভপ্রীতের খুড়তুতো ভাই প্রভদীপ সিং ভারতে এই চক্রের অপারেশনাল লিঙ্ক হিসেবে কাজ করত।

আজারবাইজান থেকে তুরস্ক: দীর্ঘ কূটনৈতিক সাফল্য
এই আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে এর আগে প্রভদীপ সিংয়ের প্রত্যর্পণও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গত মে মাসে আজারবাইজানের বাকু থেকে ইন্টারপোলের রেড নোটিসের ভিত্তিতে প্রভদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিবিআই (CBI), দিল্লি পুলিশ, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রভদীপকে ধরতে সিবিআইয়ের ‘ভারতপোল’ (BharatPol) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে অত্যন্ত নিখুঁত সমন্বয় রক্ষা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সাহায্যেই তুরস্কে লুকিয়ে থাকা মূল চক্রী নভপ্রীত সিংয়ের নাগাল পায় ভারত। পরপর এই সফল প্রত্যর্পণ ভারতের আন্তর্জাতিক ড্রাগ নেটওয়ার্ক ভাঙার লড়াইয়ে এক বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *