স্ত্রীকে জিতিয়ে নিজে ছিলেন নেপথ্যে! কংগ্রেস নেতার রহস্যমৃত্যুতে মোরাদাবাদে যা ঘটল জানলে শিউরে উঠবেন

শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের মাজহোলা থানা এলাকার জয়ন্তিপুরের মিয়াঁ কলোনিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ওয়ার্ডের বর্তমান কংগ্রেস কাউন্সিলর রুবি পারভীনের স্বামী এবং জনপ্রিয় প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর সাদ্দাম হুসেনকে (৩৫) অত্যন্ত সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিজ বাড়িতেই ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। রাত প্রায় দেড়টার দিকে ঘটা এই আকস্মিক মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল তাঁর শোকার্ত পরিবারকেই স্তব্ধ করে দেয়নি, বরং গোটা শহর ও রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক মহলে ভিড়
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই সাদ্দামকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মৃত্যুর খবর দাবানলের মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর বাসভবনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশাল ভিড় জমে যায়। গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী ইকরাম কোরেশি, নগর কংগ্রেস সভাপতি জুনাইদ ইকরামসহ একাধিক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তাঁরা শোকস্তব্ধ পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং পুরো ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

দুটি বিয়ে ও পারিবারিক কলহের ছায়া
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত সাদ্দাম মূলত পার্শ্ববর্তী জেলা আমরোহার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে মোরাদাবাদের জয়ন্তিপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক চাপই এই চরম পথ বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। জানা গেছে, সাদ্দাম দু’টি বিয়ে করেছিলেন। দুই স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহের তীব্র চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও নেপথ্যের লড়াই
সাদ্দাম কংগ্রেস সংগঠনের একজন অত্যন্ত সক্রিয়, লড়াকু এবং উদীয়মান তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি নিজেই কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়ে ৬৯ নং ওয়ার্ড থেকে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। পরবর্তীতে আসন্ন নির্বাচনগুলিতে ওই ৬৯ নং ওয়ার্ডটি অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) জন্য সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী রুবি পারভীনকে ভোটের ময়দানে নামান। রুবি পারভীন সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বর্তমান কাউন্সিলর পদ লাভ করেন। আর সাদ্দাম নিজে পর্দার আড়ালে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও দলীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

পুলিশের পদক্ষেপ
খবর পাওয়া মাত্রই মাজহোলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর একটি আইনি পঞ্চনামা তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং সঠিক সময় স্পষ্ট হবে। বর্তমানে পুলিশ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জবানবন্দি রেকর্ড করছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সমস্ত সম্ভাব্য দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *